
🧲 নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
রিয়েল এস্টেট খাতে নাগরিক হয়রানি ও অযথা দৌড়ঝাঁপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে বৈধভাবে বিক্রিত বা হস্তান্তরিত ভূমি ও ফ্ল্যাট পরবর্তীতে পুনঃবিক্রয় বা মালিকানা হস্তান্তরের সময় যে ভোগান্তি, ঘুষ-দুর্নীতি ও জটিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়, তা বন্ধে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কর্তৃক নিয়মমাফিক নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের ভিত্তিতে যেকোনো পুনঃবিক্রয় বা নামজারির আবেদন এখন থেকে দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আনা হবে। বিক্রেতা বা ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র, অযৌক্তিক যাচাই–বাছাই বা বারবার অফিসে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

নতুন এই নির্দেশনায় জেলা রেজিস্ট্রি অফিস, উপ-রেজিস্ট্রার অফিস, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে হয়রানি বন্ধে কঠোরভাবে তদারকি করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি ও ফ্ল্যাট মালিকদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেইসে সংযুক্ত করে নামজারি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, “জনগণের ভোগান্তি দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। রিয়েল এস্টেট খাতে দুর্নীতি চক্র ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করা হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তে ভূমি ও ফ্ল্যাট মালিকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছে সাধারণ মানুষ ও রিয়েল এস্টেট খাতের সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসন শাখা-২ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ক্রেতার কাছে প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর বা নামজারি করতে পারবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়—
ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত না করে কোনো হস্তান্তর বৈধ হবে না।

প্রকল্পের উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে হস্তান্তর নিষিদ্ধ।
অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা প্রতারণামূলক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন আইন ২০১০ এবং বিধিমালা ২০২১ বাস্তবায়ন জোরদার করতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন—
রাশেদুল আরাফাত, উপসচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।


















