বাঙালির ইতিহাসে পহেলা বৈশাখ কেবল একটি পঞ্জিকার পাত উল্টানো দিন নয়; এটি আমাদের হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর আত্মপরিচয়ের এক অবিনাশী প্রতীক। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই শুভ লগ্নে আমরা যখন নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছি, তখন আমাদের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে নতুনের জয়গান। মুছে যাক সব জরা, ঘুচে যাক সব অমঙ্গল—এই প্রার্থনা আজ প্রতিটি বাঙালির মনে।
পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কে, আমাদের শেকড় কোথায়। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কর আদায়ের সুবিধার্থে যে কৃষিভিত্তিক পঞ্জিকার সূচনা হয়েছিল, তা আজ বাঙালির সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এমন এক ঐক্যবদ্ধ উৎসব পৃথিবীতে বিরল। হালখাতা থেকে শুরু করে বৈশাখী মেলা কিংবা মঙ্গল শোভাযাত্রা—সবই আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাক্ষ্য দেয়।
তবে উৎসবের এই আনন্দ যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বর্তমান বিশ্ব ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে সামাজিক অসহিষ্ণুতা—সবই আমাদের মানবিক মূল্যবোধকে বারবার আঘাত করছে। এবারের নববর্ষে আমাদের শপথ হওয়া উচিত একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার। সাংবাদিকতার জায়গা থেকে আমরা যদি সততা ও সাহসিকতার সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারি, তবেই নববর্ষের এই নতুনের ডাক সার্থক হবে।
বিশেষ করে আমাদের প্রিয় জেলা নোয়াখালীসহ সারা দেশের গ্রামীণ জনপদে পহেলা বৈশাখ নিয়ে যে উদ্দীপনা দেখা যায়, তা আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী—সবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার নামই বাংলাদেশ। নতুনের এই আহবানে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আমরা যেন এক শান্তিময় ও উজ্জ্বল আগামীর পথে এগিয়ে যেতে পারি।
পুরানো বছরের ব্যর্থতা আর গ্লানিকে ধুয়ে মুছে দিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বয়ে আনুক অনাবিল সুখ। প্রতিটি ঘরে অবারিত আনন্দ আর সমৃদ্ধি বিরাজ করুক। সবাইকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
মো. রিয়াজুল সোহাগ,, সাংবাদিক, নির্বাহী সম্পাদক ও কলামিস্ট, আপডেট বিডিনিউজ24
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















