
🧲 বরিশাল প্রতিনিধি,বিডিনিউজ24 ডটকম
গেজেটের কপি হাতে পেয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও স্বজনরা আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর এবং মৃত্যুর দুই বছর পর বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলারবাসিন্দা মো. কেরামত আলী খান ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন।
শুক্রবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গেজেটে তারনাম প্রকাশ করা হয়েছে।
উপ–সচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত সেই গেজেটের কপি হাতে পেয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ওস্বজনরা আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কেরামত আলী খান পুলিশের এএসআই পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালের ২০সেপ্টেম্বর ঢাকার বনশ্রী আল–রাজী হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান।মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের আবেদন করা হলেও গেজেটে নাম না থাকায়তা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়। তার বাড়ি বরিশালেরবানারীপাড়া পৌরসভার কুন্দিহার এলাকায়।
কেরামত আলী খানের স্ত্রী জাহানারা কেরামত বলেন, স্বামীর জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধাহিসেবে স্বীকৃতির জন্য পুলিশের আইজিপি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রণালয় ও জামুকাসহ বহু দপ্তরে ধরনা দিয়েছেন।
“মৃত্যুর আগে একবার যদি নিজ চোখে গেজেটে নিজের নাম দেখতে পেতেন, তাহলেকতটাই না খুশি হতেন। আজ তার স্বীকৃতি পেলেও আফসোসের বোঝা আমাদেরসারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।”
জ্যেষ্ঠ কন্যা কামরুন্নাহার রুবী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বাবা প্রতিবছর বিজয় দিবস ওস্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে যেতেন। ফিরে এসে বলতেন, আমি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাহয়েও সম্মান থেকে বঞ্চিত। আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন এই গেজেট দেখে খুশিহতেন।”
পরিবার জানায়, ১৯৭১–এর মহান মুক্তিযুদ্ধে কেরামত আলী খান সম্মুখ সারির যোদ্ধাহিসেবে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সার্ভিস বুকে তারনামের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ লেখা থাকলেও সরকারি তালিকায় নাম ছিল না। তারআবেদন পর্যালোচনা করে ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাইকমিটি তাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশ করে এবং সেই প্রতিবেদন জাতীয়মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতেই তার নাম চূড়ান্তভাবে গেজেটভুক্তহয়।
বানারীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আইনুল হক বলেন, “কেরামতআলী খান মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি তাকে জানিয়েছে। তবে তিনিআফসোস নিয়ে চলে গেছেন। জীবদ্দশায় স্বীকৃতি পেলে তিনি আরও গর্বিত হতেন।তবে মৃত্যুর পর হলেও তার প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন, এটাই সান্ত্বনা।”
সংবাদটি শেয়ার করুন
আরও দেখুন ও পড়ুন…


















