
প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০২৫ সালের ‘কুইন এলিজাবেথ প্রাইজ ফর ইঞ্জিনিয়ারিং’ পুরস্কারটি অধ্যাপক লিএবং আরও ছয়জনের হাতে তুলে দিয়েছেন রাজা চার্লস।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাতজন অগ্রদূতের মধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে রাজাচার্লসের কাছ থেকে শীর্ষ প্রকৌশল পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন এআই ‘গডমাদার’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ফেই–ফেই লি। এ সম্মাননা পাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘সাত ব্যক্তির মধ্যে একজন হতে পেরে আমি গর্বিত’।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজনব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ফেই–ফেই লি। ‘ইমেজনেট’ ডেটাসেট তৈরি করে ডিপ লার্নিংয়েরক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছিলেন তিনি।
বুধবার ২০২৫ সালের ‘কুইন এলিজাবেথ প্রাইজ ফর ইঞ্জিনিয়ারিং’ পুরস্কারটি অধ্যাপকলি এবং আরও ছয়জনের হাতে তুলে দিয়েছেন রাজা চার্লস, যেটি আয়োজনটি হয়েছেযুক্তরাজ্যের সেইন্ট জেমস প্যালেসে।
বিবিসি লিখেছে, অধ্যাপক লি ছাড়া বাকি ছয়জন হলেন অধ্যাপক ইয়োশুয়া বেনজিও, ড. বিল ডালি, ড. জিওফ্রি হিন্টন, অধ্যাপক জন হপফিল্ড, মার্কিন চিপ নির্মাতাএনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেনসেন হুয়াং এবং মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী ড. ইয়ান লেকুন। এ আয়োজনেই প্রথমবারের মতো সাত মহারথী মুখোমুখি হলেন।
এ সাতজনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণঅবদান রেখেছেন, যাদের মধ্যে ড. জিওফ্রে হিন্টনকে বিশেষভাবে বলা হয় এআইয়ের‘গডফাদার’।
আধুনিক মেশিন লার্নিং উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য এ সাতজনকে স্বীকৃতি দিলেনরাজা। এ ক্ষেত্রটিই এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনেলিখেছে বিবিসি।
এআইয়ের ‘গডপ্যারেন্ট’ কারা?
বিশ্বজুড়ে ‘এআইয়ের জনক’ হিসেবে পরিচিত ড. হিন্টন, অধ্যাপক বেনজিও এবংবর্তমানে মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন। ২০১৮ সালে একসঙ্গে কম্পিউটারবিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচিত মর্যাদাপূর্ণ ‘টিউরিং’ পুরস্কারও পেয়েছিলেনতারা।
তবে এআই ক্ষেত্রে একমাত্র ‘গডমাদার’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক লি। তিনি বলেছেন, এ উপাধিটিকে এখন মেনে নিতে শিখেছেন তিনি।

আমি নিজেকে কোনো কিছুর গডমাদার বলতে চাই না।”
তিনি বলেছেন, কয়েক বছর আগে মানুষ যখন তাকে এভাবে ডাকতে শুরু করেন তখনএকবার থামেন এবং ভাবেন, “যদি আমি এই উপাধি পুরোপুরি অস্বীকার করি তবেনারী বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের এভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে যাবে। কারণপুরুষদের খুব সহজেই গডফাদার বলা যায়।
যেসব নারী সহকর্মীর সঙ্গে আমি কাজ করি এবং ভবিষ্যতে নারী প্রজন্মের কথা ভেবেএখন আমি এই উপাধি গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছি।”
চীনে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক লি কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন এবং পরে কম্পিউটারবিজ্ঞানে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। ‘স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র‘হিউম্যান–সেন্টার্ড এআই ইনস্টিটিউট’-এর সহ–পরিচালক এবং ওয়ার্ল্ড ল্যাবসেরসহ–প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি। ‘ইমেজনেট’ প্রকল্পের জন্যই বিশ্বজুড়েপরিচিত লি। এ প্রকল্পটির কারণে ‘কম্পিউটার ভিশন’ বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতিসম্ভব হয়েছে।
বড় ধরনের ‘ইমেজ রিকগনিশন’ ডেটাসেট তৈরি করেছেন লি ও তার শিক্ষার্থীরা, যারউপর ভিত্তি করে আজকের অনেক এআইভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে। কম্পিউটারভিশন বা কম্পিউটার কীভাবে ‘দেখতে’ পারে তা বোঝার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারেখেছে তাদের কাজ।
লি বলেছেন, সেইসব ডেটাসেটের গুরুত্ব হচ্ছে এগুলো ‘ডেটাভিত্তিক এআই ধারারদুয়ার খুলে দিয়েছে’।
তার ধারণা, এআইয়ের পরবর্তী বড় অগ্রগতি তখনই হবে যখন তা আশপাশের জগতেরসঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারবে।
এদিকে, এআই কতটা বিপজ্জনক হতে পারে সে সম্পর্কে প্রকাশ্যে ভিন্ন মত পোষণকরেছেন ড. হিন্টন, অধ্যাপক বেনজিও ও ইয়ান লেকুন এ তিন ‘গডফাদার’।
ড. হিন্টন বারবার সতর্ক করে বলেছেন, এআই ‘বিলুপ্তি স্তরের বিপদ’ তৈরি করতেপারে। তবে অধ্যাপক লেকুন বলেছেন, এআই নিয়ে এ ধরনের সর্বনাশের সতর্কতারবিষয়টি অতিরঞ্জিত।
কুইন এলিজাবেথ পুরস্কার প্রতি বছর সেইসব প্রকৌশলী পান যারা বিশ্বজুড়েমানবজাতির জন্য নতুন ও যুগান্তকারী উদ্ভাবন করেছেন। গত বছরের বিজয়ীদের মধ্যেরয়েছেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের স্রষ্টা স্যার টিম বার্নার্স–লি।
কুইন এলিজাবেথ প্রাইজ ফর ইঞ্জিনিয়ারিং ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান লর্ড ভ্যালেন্সবলেছেন, ‘প্রকৌশলের সেরাদের প্রতিফলনই এ বিজয়ীরা। তাদের কাজ ‘প্রমাণকরেছে কীভাবে প্রকৌশল আমাদের পৃথিবীকে টেকসই এবং একই সঙ্গে আমাদেরজীবনযাপন ও শেখার ধরন বদলে দিতে পারে’।
আরও পড়ুন…


















