
স্বাস্থ্য ডেস্ক,
দেশজুড়ে তাপমাত্রা কমতে শুরু করতেই কাশি, জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের। চিকিৎসকরা জানান—গত দুই সপ্তাহে শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৩০–৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
চিকিৎসকদের ভয়—“নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে”
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। ঘরবাড়ি বন্ধ থাকায় সংক্রমণ আরও বেশি হয়।
ডা. মাহবুব আলম বলেন—
“ফ্লু, আরএস ভাইরাস, অ্যাজমা অ্যাটাক—সবই বাড়ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন ও নিউমোনিয়া খুব দ্রুত দেখা দিচ্ছে। লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করার পরামর্শ দিচ্ছি।”
যেসব লক্ষণ দেখলে বিপদের আশঙ্কা
দ্রুত শ্বাস ফেলা বা বুক ধড়ফড়
৩ দিনের বেশি জ্বর
কাশি বেড়ে যাওয়া
ঠোঁট নীলচে হওয়া
শিশু খেতে না চাইলে বা ঘন ঘন কাঁদলে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে—সারা দেশে রোগীর চাপ বাড়ার কারণে হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত বেড প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোকে বিশেষ মনিটরিং চালানোর নির্দেশ গেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন—
“এই মৌসুমে রোগ ছড়ানো ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক পরা, গরম পানি পান করা এবং রোদে থাকা খুব জরুরি।”
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার
প্রতিদিন অন্তত ১–২ গ্লাস গরম পানি পান
সকালে ১০–১৫ মিনিট রোদে থাকা
শিশুদের ঠান্ডা পানি বা বরফজাতীয় খাবার না দেওয়া
ঘর পরিষ্কার রাখা ও বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা
ধুলাবালিতে না যাওয়া
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। দ্রুত সচেতনতা না বাড়লে শ্বাসজনিত রোগে শিশু–বৃদ্ধদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।


















