
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নোয়াখালী:
তীব্র রোদ, আকস্মিক ঝড় কিংবা ভারী বৃষ্টি—সব প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই নোয়াখালীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী চৌরাস্তায় যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলস দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে তীব্র তাপদাহ কিংবা হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির সময় নিজেদের একটু আড়াল করার মতো পর্যাপ্ত আধুনিক ‘ট্রাফিক বক্স’ বা ছাউনি না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের। অনেক সময় চৌরাস্তা মোড়ে সড়কের পাশে থাকা গাছই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থল।
চৌমুহনী চৌরাস্তা চত্বরটি চারপাশের কয়েকটি জেলার সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে দিন-রাত যানবাহনের তীব্র চাপ থাকে। সম্প্রতি তীব্র রোদ ও বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও এখানে দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টদের কঠোর ডিউটি। কিন্তু ডিউটির বিরতিতে বা তীব্র গরমে একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য কিংবা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে সড়কের পাশে থাকা গাছের ছায়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে তাদের। পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ট্রাফিক বক্স না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চৌমুহনী ট্রাফিক ইনচার্জ উত্তম দেবনাথের বক্তব্য:
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌমুহনী ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ **উত্তম দেবনাথ বলেন,
“চৌমুহনী চৌরাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত একটি পয়েন্ট। এখানে একটু এদিক-ওদিক হলেই তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে। তাই আবহাওয়া যতই বৈরি হোক—তা তীব্র রোদ হোক কিংবা ঝড়-বৃষ্টি—আমাদের সদস্যরা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও যানজট মুক্ত সড়ক উপহার দিতে সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।”
তিনি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন,”কখনো কখনো তীব্র রোদ বা হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে চৌরাস্তার মোড়ে থাকা গাছ বা অস্থায়ী শেড ছাড়া আমাদের সদস্যদের দাঁড়ানোর মতো বিকল্প জায়গা থাকে না। তবে এই সব কষ্ট ও সীমাবদ্ধতাকে একপাশে সরিয়ে রেখেই ট্রাফিক বিভাগের প্রতিটি সদস্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা চেষ্টা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে চৌমুহনী চৌরাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের জন্য স্থায়ী ও আধুনিক ছাউনি বা ট্রাফিক বক্সের ব্যবস্থা করার, যাতে সদস্যরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”
নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া:
এদিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ পথচারী ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেকোনো পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে চৌমুহনী চৌরাস্তার মতো এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়ে যারা রাত-দিন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন, তাদের ন্যূনতম মানবিক সুযোগ-সুবিধা ও বসার মতো আধুনিক বুথ বা ছাতার ব্যবস্থা করা অতি জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন…
















