
ভিকটিম ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্ত
ঢাকা প্রতিনিধি|
রাষ্ট্রীয় নির্যাতন আর গুমের কালো ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার পথে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে জাতিসংঘে সেই বিতর্কিত ‘ডিক্লেয়ারেশন’ বা রিজার্ভেশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ঢাকা। এর ফলে রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো নাগরিক নির্যাতন বা গুমের শিকার হলে এখন থেকে শুধু বিচার নয়, মিলবে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ পুনর্বাসন। গত ২৯শে ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
কেন এই ঘোষণা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন (CAT)-এ বাংলাদেশ সই করলেও ১৪(১) অনুচ্ছেদে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। সেই শর্তের বেড়াজালে গত ২৬ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বাংলাদেশের সঙ্গে এই তালিকায় ছিল বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো। বর্তমান সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপে সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
যা পাবেন ভুক্তভোগীরা:
এখন থেকে যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন বা গুমের শিকার হন, তবে রাষ্ট্র তাকে কেবল মুক্তি দিয়েই খালাস পাবে না; তাকে দিতে হবে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ। এমনকি নির্যাতনে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারও এই অধিকার পাবে। এর মাধ্যমে দেশের মানবাধিকারকর্মীদের প্রায় ২০ বছরের দীর্ঘ লড়াই আজ সফল হলো।
মতামত:সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। তারা মনে করছেন, এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হবে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতাও কয়েক গুণ বাড়বে। এখন থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো অশুভ ছায়া কারো ওপর পড়লে, তার প্রতিকার পাওয়ার পথ আইনিভাবেই উন্মুক্ত।
আরও জানতে চোখ রাখুন পরের পাতায়…


















