
মোহাম্মদ আহসান,গলাচিপা পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দারস্থ হয়েও জমির সমাধান পাচ্ছে না ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, চর বিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি গ্রামের বাসিন্দা ২০০১ সালে ভূমিহীন হিসাবে হারুন মৃধা ও তার স্ত্রীকে সরকার নতুন খতিয়ান খুলে ৭৩৩০নং রেজিস্ট্রি কবুলিয়াত মূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাফেজ খন্দকার হারুন মৃধার বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া, বেলা রানী ও শ্রীচরণ হাওলাদারের একই রেজিস্ট্রি কবুলিয়াত মূলে বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হারুন মৃধা জানান, ২০০৩ সালে রাফেজ খন্দকার বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে উৎখাত করার জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। রাফেজ খন্দকার স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জমি জাল জালিয়াতি পূর্বক কাগজপত্র তৈরি করে ভোগ দখল করে আসছেন। উক্ত সম্পত্তি ২০ বছর পর্যন্ত জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন রাফেজ খন্দকার। বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তির দাগ নম্বর ৬২১৪ ও ৬২১৫।
মকবুল ব্যপারী জানান, ২০০১ সালে ভূমিহীন হিসাবে হারুন মৃধা ও তার স্ত্রীকে সরকার কতৃক কবুলিয়াত মূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। কিন্তু রাফেজ খন্দকার, শহিদুল খন্দকার এরা জাল জালিয়াতি পূর্বক কাগজপত্র তৈরি করে ভোগ দখল করছে। হারুন মৃধাকে উক্ত সম্পত্তি দীর্ঘ বছর ধরে তারা চাষাবাদ করতে দেয় না।
বেলা রানী জানান, আমার স্বামী মারা গেছে আমার স্বামী নাই। ২০ বছর ধরে জমি চাষাবাদে জানতে পারি না। রাফেজ খন্দকার, শহিদুল খন্দকার এরা মারধর কইরা আমাগোরে দখলে দেতে আছেনা। এখন আমরা অসহায় আছি অনেক টাকা পয়সা খুয়াইয়া কোথাও নেয্য বিচার পাইতে আছিনা আর আমাগো জমি দহলে যাইতে পারতেছিনা।
জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, বিগত অনেক বছর ধরে হারুন মিয়া এ জমি নিয়া অনেক মারধোর কেস মামলা খাইছি, জাল বাইছে এমনকি রুপি বেচ্চে। এখন রুপি হারুন নামে এলাকায় সবাই এক নামে চেনে। কিন্তু আইজ পর্যন্ত বেডাডায় জমির দখন নিতে পারেনা। ১৫-২০ বছর মামলাডা চালায়। আদালত করলে উকিলে খাইয়া বাডাবাডা কইরা দেয়। বাড়িডাও নাই বর্তমানে এ-ও ব্যাচা। তার পক্ষে কোন লোক নাই, এ দেশে কোন বিচার আছে বেডাডায় আছে কোন জায়গায়।
রাফেজ খন্দকার জানান, হারুন মৃধার দাবিকৃত বন্দোবস্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করছিনা।আমি আমার পৈত্তিক সম্পত্তি দীর্ঘদিন পূর্ব হতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভোগ দখল করছি। হারুন মৃধা বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে আমাকে অনেক হয়রানি করে আসছে। আমার কাগজপত্র কোন রূপ জাল জালিয়াতি নয়। উক্ত জমি নিয়ে একাধিকবার শালিসি মীমাংসা হয়েছে কিন্তু সে কিছুই মানেনা। হারুন মৃধা মামলাবাজ প্রকৃতির লোক।
চর বিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল মুন্সি জানান, এ সম্পত্তি নিয়ে আদালত চলমান তাই তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।
বিশ বছরের অধিক সময় পার হলেও জমির সমাধান পাচ্ছে না হারুন মৃধা। এ জমিকে কেন্দ্র করে বাবাকে হারিয়েছেন। আজও নিখোঁজ পিতা মান্নান মৃধা। বাবা জীবিত না মৃত জানেন না হারুন মৃধার পরিবার। অর্থ সম্পদ বিক্রি করে জেলা উপজেলার বিভিন্ন দারে দারস্থ হয়েও জমির সমাধান পাচ্ছে না তিনি। আজ নিঃস্ব হয়ে শুধু বসত ভিটাটি আকরে পরে আছেন ন্যায্য বিচারের আশায় হারুন মৃধা।


















