
এ.কে পলাশ,কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের ১২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইন (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী চারজনকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভারত থেকে এই অবৈধ পুশইন ঠেকাতে সাধারণ মানুষসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের (সরাইল) রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লার ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গত তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন ও ৬০ ব্যাটালিয়নের জব্দকৃত কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার জানান, গত তিন বছরে এই দুই ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক ও জব্দ করেছে। এ সময় মাদকসহ হাতেনাতে ৫২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আড়াইশরও বেশি আসামি পলাতক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, ১০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ, র্যাব অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল পরিদর্শক নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন যৌথ ও একক অভিযানে মোট ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত মাদকের উল্লেখযোগ্য তালিকার মধ্যে রয়েছে:
১/ফেনসিডিল:৩৪,২৩৫ বোতল
২/স্কাফ সিরাপ: ৩৪,১৭২ বোতল
৩/বিদেশি মদ ও বিয়ার: হুইস্কি ৮৪,৯৫৫৮ বোতল এবং বিয়ার ১৮,০৪৯ বোতল
৫/গাঁজা ও ইয়াবা: গাঁজা ২৩,৯৮১ কেজি এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ৩,১০,৫৯৮ পিস
৬/নানা ধরনের নিষিদ্ধ ট্যাবলেট ও ইনজেকশন: ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৪,৪২,০২১ পিস, নিমোসলাইড ৬,৭০,০৪০ পিস, সিপরোহিপটাডিল ৮,৬২,৩৫০ পিস, সেনেগরা ১,৫২,৩৭২ পিস, সিনিক জেড ২,৫৫,৬০০ পিস, এবং আইপি ইনজেকশন ১৩,৩৩৮ পিসসহ বিপুল পরিমাণ জর্দা, বিড়ি ও সিগারেট।কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, “১০ ব্যাটালিয়নের অধীন ৯৬.১০ কিলোমিটার এবং সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধীন ৭৯.১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এসব মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে ধ্বংস করার মাধ্যমে আমরা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরতে চাই।”
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার বলেন, “সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি মাদক উদ্ধারে দারুণ সফলতা দেখাচ্ছে। সব বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে বলে আমরা আশা করি।”
সমাপনী বক্তব্যে সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “মূলত এই ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান একটি প্রতীকী আয়োজন। পুরো রিজিয়নে মাদকের উদ্ধার ও তৎপরতার পরিমাণ আরও অনেক বেশি। আমরা সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় মাদকের এই সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চাই। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মাদকের আগ্রাসনে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হোক—তা কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না।”
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















