
“ডলার রাজস্ব নয়, শিল্প রক্ষাই মূল লক্ষ্য”
বাণিজ্য প্রতিবেদক |
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী বাস্তবতা মোকাবিলায় শুল্ক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধি অনুযায়ী উচ্চহারে শুল্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে না। তাই স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করে বাকি সব খাতে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমিয়ে আনা হবে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ‘আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।এনবিআর চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানে শুল্ক কেবল রাজস্ব আয়ের বড় উৎস নয়। তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশেই এখন শুল্ক রাজস্ব আয়ের প্রধান মাধ্যম নয়। আমরা মূলত দেশীয় কিছু নির্দিষ্ট শিল্পকে সুরক্ষা দিতে শুল্ক আরোপ করি। তবে এলডিসি উত্তরণের পর আমাদের ট্যারিফ স্ট্রাকচার আরও যৌক্তিক করতে হবে। এজন্য একটি ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন রিপোর্ট ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।”
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমান খান বলেন, গত দেড় বছরে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়নি। উল্টো জনস্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু এবং সয়াবিন তেলের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। আমদানি করা ফলের উচ্চমূল্য সম্পর্কে তিনি জানান, ফলের ওপর নতুন কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি, বরং অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ডলারের মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধিকে দায়ী করেন।
চেয়ারম্যান আরও জানান, শুল্ক বিভাগের এখন প্রধান দায়িত্ব হলো অবৈধ পণ্যের প্রবেশ রোধ এবং মিথ্যা ঘোষণার (আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে অর্থ পাচার ঠেকানো। পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে বর্তমানে ৯০ শতাংশ পণ্য মাত্র একদিনে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩৪ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা থেকে ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগৃহীত হয়েছে। অটোমেশনের এই ধারা শুল্ক বিভাগেও পুরোপুরি কার্যকর করার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জরুরি প্রয়োজনে পুলিশেকে কল করুন ৯৯৯…


















