
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: এক টেবিল, তিন চেয়ার একলাখ। তিন দরজা, তিন জানালা মেরামত ও রং করতে পাঁচ লাখ। এভাবেই অফিস সংস্কার ও আসবাবপত্র ক্রয় দেখিয়ে হরিলুট চলছে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা মৎস অফিসে। অফিস সংস্কার ও ব্যায় ভাউচারের তথ্য চাইলে নানা অযুহাতে গণমাধ্যম কর্মীদের তা সরবরাহ করেননি উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুফি আহম্মেদ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫ই আগষ্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুথ্যানের সময় সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যালয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলা মৎস অফিসের দরজা-জানালা ভাংচুর করে উন্মত্ত জনতা। সেসকল ক্ষয়ক্ষতি সংস্কারে উপজেলা মৎস অফিস থেকে গত একমাস আগে পাঁচ লাখ টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয় মৎস অধিদপ্তরে। চাহিদা পত্রে চারটি দরজা, নয়টি থাই গ্লাসের জানালা, অফিস রং করা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষয়ক্ষতি দেখানো হয়। আর এসবের সংস্কারে বরাদ্দ চান।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ই আগষ্টের পর মৎস অফিসের একটি বাথরুমের প্লাস্টিকের দরজা, তিনটি থাই গ্লাসের জানালা ব্যাতিত কোন ক্ষয়ক্ষতির চিন্হ দেখা যায়নি।
সোনাইমুড়ী উপজেলা মৎস অফিসের সংস্কার কাজ করছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি মেসার্স হাওলাদার ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী। কাজের বিষয়ে তিন জানান, বরাদ্দের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। টাকা আসেনি। তিনি নিজের খরচে উপজেলা মৎস অফিসের কাজ করাচ্ছেন। পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিল পাশ করাবেন। তবে টাকার ভাগ উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকলকে দিতে হবে। কাজ অনুযায়ী চাহিদার টাকার বড় ব্যবধানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তার ব্যবসা। আর ব্যবসায় লাভের চিন্তা সকলেই করে।”
সোনাইমুড়ী উপজেলা মৎস অফিসের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে স্থানীয় কয়েকজন সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা জানান, ৫ই আগষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান অফিস, নির্বাচন অফিস ও অডিটোরিয়াম ছাড়া অন্য অফিসগুলোতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের এক কর্মচারী জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন মৎস অফিসের বাইরের দিকের তিনটি থাই গ্লাসের জানালা ভাংচুর করা হয়। ভেতরের বাথরুমের প্লাস্টিকের দরজা আগে থেকেই নষ্ট ছিলো। উপজেলা মৎস কর্মকর্তার রুমের চেয়ার-টেবিলে কোন হামলা হয়নি। পুরতন হওয়ায় সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুফি আহম্মেদের সাথে দেখা করলে তিনি বরাদ্দ কিংবা চাহিদাপত্রের কোন তথ্য প্রতিবেদককে দেননি। তথ্যের জন্য তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। তবে তার রুমের নতুন টেবিল-চেয়ারের কথা জানতে চাইলে এগুলো এক লাখ টাকা দিয়ে কেনার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, অফিসের জন্য তিনটি চেয়ার ও একটি টেবিল চৌমুহনীর একটি শোরুম থেকে ক্রয় করেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস কর্মকর্তা (উপ পরিচালক) আনোয়ার হোসেন জানান, সোনাইমুড়ী উপজেলা মৎস অফিসের সংস্কার কাজের বরাদ্দের আবেদনপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তবে চাহিদা পত্রের সাথে টাকার অংকের তারতম্যের বিষয়টি তিনি খেয়াল করে দেখেননি বলে জানান।
















