
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক |৯ডিসেম্বর ২০২৫
ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে টানা বৃষ্টি, আকস্মিক ঝড় ও ভয়াবহ বন্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪৫ জন নিহত এবং শতাধিক নিখোঁজ হয়েছে। ইতালি, জার্মানি, জাপান ও ফিলিপাইনে প্রকৃতির তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
🇮🇹 ইতালি: নদীর তীরে ভয়াবহ প্লাবন—শহর পানির নিচে,
ইতালির উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ প্রবল বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি শহর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। ডজনের বেশি নদীর বাঁধ ভেঙে পড়েছে, সেতু ভেসে গেছে এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা
সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজে নিয়োজিত
কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি
কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ
স্থানীয় প্রশাসন বলেছে—এ ধরনের বন্যা “গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ”।
🇩🇪 জার্মানি: ট্রেন চলাচল বন্ধ—বিপর্যস্ত পরিবহন ব্যবস্থা জার্মানির বাভারিয়া ও স্যাক্সনি রাজ্যে প্রবল ঝড়–বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে আকস্মিক বন্যা।ইন্টারসিটি ও আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ স্থগিত বহু সড়ক বন্ধ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে লাখো মানুষ দুর্ভোগে বেশ কয়েকটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি,বন্যার কারণে কয়েকটি বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
🇯🇵 জাপান: পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বহু নিখোঁজ
জাপানের কিয়ুশু ও শিজুওকা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বড় ধরনের ভূমিধস হয়েছে।
ঘরবাড়ি, গাড়ি ও দোকানপাট কাদায় চাপা পড়ে গেছে।
শতাধিক উদ্ধারকর্মী অভিযান পরিচালনা করছে
অন্তত ১৫ জন আহত বহু মানুষ নিখোঁজ
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও ভূমিধসের সম্ভাবনা
সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা খালি করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে।
🇵🇭 ফিলিপাইন: ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত—২ লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
ফিলিপাইনের লুজন অঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।জলোচ্ছ্বাসে নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে সমুদ্রবন্দর বন্ধ
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিমি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা:এই বিপর্যয় জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফল”বিশেষজ্ঞরা বলছেন—চরম আবহাওয়া, আকস্মিক বন্যা এবং অস্বাভাবিক রেইনফল এখন জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা।পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মহাদেশজুড়ে জলবায়ুর আচরণ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।
🇺🇳 জাতিসংঘের আহ্বান: “উন্নত দেশগুলোর জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন”জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা জানিয়েছে—কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এখন আর বিলম্ব করার মতো বিষয় নয়।
জাতিসংঘ বলেছে—এ ধরনের দুর্যোগ দ্রুত ও ঘন ঘন ঘটতে থাকলে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।

















