
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে চাষীরহাট নূরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ ) সকাল ৮ টায় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই জামায়াতে অংশগ্রহণ করে। এসময় কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায় স্কুল মাঠ। সেখানে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মত।
জামায়াতে খুতবা দেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কৃতিসন্তান, চাষিরহাট উন্নয়ন পরিষদের রূপকার হেযবুত তওহীদের ইমাম (সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা) হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। আয়োজনের প্রধান পৃষ্টপোষক ছিলেন চাষিরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মইন উদ্দিন।
খুতবায় হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বিশ্বের মোসলমানদের ঐক্য-ভ্রাতত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ব ও রাষ্ট্রের এই সংকটময় অবস্থায় আল্লাহর রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর প্রকৃত ইসলামের বিকল্প নাই বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত হয়েছে। মানুষ প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নয়ন করেছে। তবে মানুষের চারিত্রিক অধপতন হয়েছে। সমগ্র দুনিয়ায় চুরি-ডাকাতি, খুন-রাহাজানি, হত্যা, ধর্ষণ, ব্যাভিচার, অন্যায়-অপরাধ বেড়েছে। এই মুহুর্তে বিশ্বের ৩৫টি দেশে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার নির্দোষ, নিরাপরাধ নারী শিশু নিহত হচ্ছে। শুধু গত এক বছরে ফিলিস্তিনের মোসলামানদের ওপরে যে বর্বরচিত আক্রমণ হয়েছে তা সীমাহীন।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর চলে গিয়েছে। দেশের চুরি-ডাকাতি, খুন-রাহাজানি, হত্যার ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছে। নারী-পুরুষ উভয়ের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। দেশের হাজার-হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে কোন বিচার নাই।
বিশ্ব মোসলমানদের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, মোসলামান জাতি আল্লাহ ও রাসুলকে বিশ্বাস করে। তারা কোরআনকে বিশ্বাস করে। পরকালকে বিশ্বাস করে। তারা সংখ্যায় ২০০ কোটি, ৬০ টি ভৌগলিক রাষ্ট্র। মোসলমান জাতির মধ্যে লাখ লাখ আলেম, মাওলানা, মুফতি, পীর, মাশায়েখ। আমাদের কোন কিছুর অভাব নাই। এর পরেও আজকে যখন আমরা ইদের আনন্দ করবো তখন আমাদের পাশের দেশ মিয়ানমারের ১০ লাখ মোসলমান উদ্বাস্তু। আর ফিলিস্তিনের মোসলামানদের অবস্থা তো অবর্ণনীয় এই মুহুর্তে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর দেওয়া সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। আল্লাহর দেওয়া দ্বীন ছাড়া পৃথিবীতে শান্তি আসবে না। যতই সংবিধান সংস্কার করা হোক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৈরী করা হোক শান্তি আসবে না।
ঈদগাহে পুরুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার নারী-শিশুরা নামাজে অংশগ্রহণ করেন। পুরুষের নামাজের প্যান্ডেলের পাশেই নারীদের নামাজের জন্য পৃথক প্যান্ডেল করা হয়। নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পাশ্ববর্তী জেলা গুলো থেকেও নারীরা এই জামাতে অংশ গ্রহণ করে।
নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যান কামনায় দোয়া করা হয়। মোনাজাত শেষে সকলের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। পরে ঈদগাহে উপস্থিত শিশুদের সাথে সময় দেন হেযবুত তওহীদের ইমাম। পবিত্র মাহে রমজানে যেসব শিশুরা রোযা রেখেছে তাদের উৎসাহ দিতে পুরস্কৃত করেন। এসময় শিশুদের মাঝে স্বল্প পরিসরে ক্রীড়া প্রতিযোগীতার আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
















