
নিজস্ব প্রতিবেদক,নেত্রকোনা|
নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় মগড়া নদীর সেতু সংলগ্ন জয়নগর মোড়ে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এসে থামে। এরপর তারা স্তম্ভটির ওপর পেট্রোল/কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে স্মৃতিস্তম্ভটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে এবং আগুন লাগানোর পর তিন যুবককে মূল বেদি থেকে নেমে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তাদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। ঘটনার পরপরই তারা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধাতব (স্টিল) ও লোহার তৈরি স্মৃতিস্তম্ভটির নিচের অংশ এবং পেছনের কিছু অংশ আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেছে। তবে স্তম্ভটি সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার জানান:কেরোসিন বা পেট্রোল ঢেলে এই আগুন লাগানো হলেও স্মৃতিস্তম্ভটি স্টিলের তৈরি হওয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে।”
>
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, গভীর রাতের এই ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে গুলিতে নিহত ১৭ জন শহীদের স্মরণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্থানীয় ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির
**আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামলায় সেখানে থাকা মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
বুধবার (১০ জুন) আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সুপরিকল্পিত হামলা
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জর্ডানের আল-আজরাক (Muwaffaq Salti Air Base) অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির ওপর এই হামলায় তাদের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ‘সলিড-ফুয়েল’ (কঠিন জ্বালানি চালিত) ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়:
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন বিমানঘাঁটির অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ ফাইটার জেটের একটি হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড সেন্টার রয়েছে।”
আইআরজিসি এই হামলাকে তাদের একটি সুপরিকল্পিত ও বৃহত্তর ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এই অভিযানের আওতায় তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিও রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন এমকিউ-৯ (MQ-9 Reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
হামলার পটভূমি ও উত্তেজনা
গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন ড্রোন বা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগ এনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল এবং কিশ দ্বীপে নিখুঁত বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী (US CENTCOM)। যুক্তরাষ্ট্রের সেই আগ্রাসনের পাল্টা জবাব ও সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে ইরান আজ এই ত্রিমুখী (জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েত) ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতির ভিন্ন দাবি
আমেরিকার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রকাশ করা না হলেও, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা আকাশপথে আসা অন্তত ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জর্ডানের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়লেও তাতে বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানের দাবি সত্য হয় এবং এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে এটি হবে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা মার্কিন এফ-৩৫ অবকাঠামোর ওপর প্রথম সরাসরি সফল আঘাত।
বিবৃতির শেষাংশে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, আমেরিকার যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তারা আরও বড় এবং ‘চূড়ান্ত’ আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















