
সেনবাগে পৈত্রিক ভিটায় দ
ছাত্রকে ‘মিথ্যা’ মামলায় জেল খাটানোর অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে; প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের কান্না, ওসির কাছে বিচার দাবি
বিডিনিউজ24 ডেস্ক/সেনবাগ প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগ পৌর এলাকায় পৈত্রিক ও দীর্ঘদিনের দখলীয় বসতভিটায় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার আশঙ্কায় বর্তমানে অবরুদ্ধ ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে একটি নিরীহ পরিবার। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সেনবাগ পৌরসভার দক্ষিণ অর্জুনতলা এলাকায়। থানায় লিখিত অভিযোগকারী মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন (২৫) ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে চট্টগ্রামে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। লিখিত অভিযোগে সাব্বিরের মা নিলুফা বেগমসহ স্থানীয় দুই প্রতিবেশীকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে সাব্বিরদের পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় বসতভিটার সম্পত্তি গ্রাস করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদী পক্ষ কোনো আইন বা সামাজিক ফায়সালা মানেনি। উল্টো বিভিন্ন সময় তারা প্রকাশ্য দিবালোকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে আসছিল।
সর্বশেষ গত ১০ জুন বিকেলে সাব্বিরের পরিবার তাদের নিজস্ব সীমানার পুরোনো জরাজীর্ণ টিনের বেড়াটি খুলে স্থায়ী ইটের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ সময় বিবাদী পক্ষ দেশীয় লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবল নিয়ে অতর্কিতে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। তারা রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের মারধর করার জন্য তেড়ে আসে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় মুরুব্বিদের মধ্যস্থতায় পুনরায় কাজ শুরু করতে গেলে বিবাদীদের মারমুখী আচরণের কারণে তা পণ্ড হয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, পুনরায় কাজ ধরলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
● প্রতিপক্ষের দাম্ভিক উক্তি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের অন্যতম মোহাম্মদ আবদুল হান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে চরম দাম্ভিকতার সুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, “মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন মাসুম পারলে আরো কিছু করুক, আমাদের কিছু যায় আসে না।”
এদিকে ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের অভিযোগ, মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং জমি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাব্বিরের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন।
মামলার ফিরিস্তি:
হয়রানিমূলক এই মামলায় সেনবাগ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থী সাব্বিরকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় (বেআইনি সমাবেশ, জবরদখল, গুরুতর জখম ও হত্যার চেষ্টা) মামলা রুজু করে। তবে বিজ্ঞ আদালত সমস্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে একই দিন সাব্বিরকে জামিনে মুক্তি দেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সেনবাগ পৌর শহরের একটি স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন মাসুম ও তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে, পৈত্রিক সম্পত্তির সঠিক সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে চিরতরে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
এ ব্যাপারে সেনবাগ থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















