
স্টাফ রিপোর্টার।।
রাজধানীর গুলিস্থান এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ফুলবাড়িয়া এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় জামায়াতের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী ও সাধারণ ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য সরাসরি বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্থান এলাকায় মার্কেট দখল এবং চাঁদাবাজি নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। সম্প্রতি একটি মার্কেট তালাবদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাদের পাশে দাঁড়ান। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে ফুলবাড়িয়া মোড়ে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় স্থানীয় জামায়াত। সেখানে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জড়ো হতে শুরু করলে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গুলিস্থান এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অব্যাহত রেখেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোয় তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আজ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিএনপির লোকজন ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ গ্রুপ আমাদের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। এই হামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগেরও কয়েকজন নেতা অংশ নিয়েছে।”
আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন আরও জানান, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত তিন জামায়াত কর্মীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এদিকে হামলার পর ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্থান এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















