
নিউজ ডেস্ক:
ইরানের চলমান অস্থিরতা ও মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন নীতি, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে চরম দোটানায় রয়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব এবং ওমান এই অঞ্চলে কোনো ধরনের বড় সামরিক সংঘাতের ঘোর বিরোধিতা করছে।
কেন এই বিরোধিতা?কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আরব দেশগুলোর এই আপত্তির পেছনে প্রধানত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:
১. জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়: সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো মনে করছে, সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং এই অঞ্চলের নিরাপদ ব্যবসার ইমেজ ধসে পড়বে।
২. পাল্টা হামলার আতঙ্ক: ইরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কাতার বা সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হলে তারা ওই দেশগুলোতেও মিসাইল হামলা চালাবে। ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার অভিজ্ঞতা আরব দেশগুলোকে সতর্ক করে তুলেছে।
৩. অস্থিতিশীলতা ও শরণার্থী সমস্যা: একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের শাসনব্যবস্থা যদি হঠাৎ ভেঙে পড়ে, তবে পুরো অঞ্চলে যে অরাজকতা তৈরি হবে, তার ধাক্কা সামলানো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো আরব দেশগুলোর মাটিতে অবস্থিত। কাতার, সৌদি আরব বা ওমান যদি তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেয়, তবে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ অপারেশন চালানো পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, “অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ” কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।
আরও পড়ুন…

















