আন্তর্জাতিক ডেস্ক:স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবারের এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এই বিভীষিকার মধ্যেই গতরাতে বার্সেলোনায় আরও একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। রবিবারের সেই যমদূতসম দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া মাদ্রিদের ৩৭ বছর বয়সী নার্স হাভিয়ের গার্সিয়া ইগলেসিয়াস শুনিয়েছেন সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা।
কর্ডোবা থেকে মাদ্রিদগামী ‘আইরিও’ ট্রেনের যাত্রী ছিলেন হাভিয়ের। ইউরোনিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুর্ঘটনার মুহূর্তটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে শুরুতে তিনি বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। তার ভাষায়, “প্রথম দেড় ঘণ্টা আমি ভাবতেই পারিনি অন্য কোনো ট্রেনের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ হয়েছে। আমার মনে হয়েছিল ট্রেনটি হয়তো কোনো কিছুর ওপর দিয়ে চলে গেছে।”
হাভিয়ের জানান, ঘটনার ভয়াবহতা তার কাছে তখনও স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু যখন ট্রেনের স্পিকারে ঘোষণা করা হলো— ‘ট্রেনের পেছনের বগিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং প্রাথমিক চিকিৎসায় অভিজ্ঞদের প্রয়োজন’, তখন তার ভুল ভাঙে। একজন পেশাদার নার্স হিসেবে মুহূর্তেই তিনি সাহায্যের জন্য পেছনের বগিগুলোর দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে যা দেখেন, তার জন্য তিনি মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
ট্রেন ভ্রমণ যে দেশে সচলতার প্রতীক, সেখানে এমন প্রাণহানি পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হাভিয়ের বারবার বলছিলেন, “যা ঘটেছে তা এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। তবে আমি ভাগ্যবান যে সবচেয়ে খারাপ কিছু আমার সাথে ঘটেনি।”দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার এই নাজুক পরিস্থিতিতে স্পেনের সাধারণ মানুষের মনে এখন গভীর আতঙ্ক আর শোকের ছায়া।
আপনার হাতে আগামীর বাংলাদেশের চাবি, ভোট আপনার নাগরিক অধিকার…

















