
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নোয়াখালী|
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা নোয়াখালীতে সরকারি সমাজসেবা কার্যক্রম তীব্র জনবল সংকটের মুখে পড়েছে। জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের বহুতল ভবনটি দৃশ্যত আধুনিক হলেও, এর ভেতরে প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য থাকায় থমকে গেছে সরকারের একাধিক জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি।
ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সংবেদনশীল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর।
আধুনিক ভবন, কিন্তু শূন্য চেয়ার
নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সমাজসেবা কমপ্লেক্স ভবনটিতে জেলা কার্যালয় ছাড়াও ‘শহর সমাজসেবা কার্যালয়’ এবং ‘প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়’ অবস্থিত। ভবনের বাইরে সরকারি লোগো সম্বলিত সাইনবোর্ডগুলো উজ্জ্বল হলেও, ভেতরের বাস্তবতা ভিন্ন।
জেলা কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী ‘সমাজকর্মী’ বা ‘কারিগরি প্রশিক্ষক’—প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই পদের বড় একটি অংশ খালি পড়ে আছে। মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে এই শূন্যপদগুলো পূরণ না হওয়ায়, দায়িত্বরত অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর কাজের পাহাড়সম চাপ তৈরি হয়েছে।
সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ভাতা বিতরণের মূল দায়িত্ব সমাজসেবা অধিদপ্তরের। জনবল সংকটের কারণে নতুন ভাতাভোগী অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী বা বয়স্ক ব্যক্তিরা ভাতার কার্ডের জন্য মাসের পর মাস জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।
নোয়াখালীর সদর উপজেলা থেকে আসা এক বয়স্ক নারী জানান কার্ডের ছবি জমা দিতে তিনবার আসলাম। অফিসার নাই, তাই কাজ হচ্ছে না। আমাদের মতো গরিব মানুষের কথা শোনার কেউ নেই ।”
এছাড়াও, প্রবেশন অফিসের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। অপরাধ প্রবণতা রোধে আদালত থেকে প্রবেশনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের তদারকি করার জন্য পর্যাপ্ত অফিসার না থাকায় সরকারের এই আধুনিক বিচার বিভাগীয় ধারণার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ২৪ এর প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করছি। একজন কর্মচারীকে তিন-চারজনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে কাজের গুণমান বজায় রাখা এবং সময়মতো সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত শূন্যপদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় সংকট কাটছে না।”
উপসংহার
নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের এই সংকট সরকারের তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছানোর অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে এই দপ্তরে দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন কর্মীরা।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















