
নিজস্ব প্রতিবেদক |
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবার নতুন কৌশলে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডলারের দর অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফের সক্রিয় হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯শে জানুয়ারি) ৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৫ মিলিয়ন (৫ কোটি ৫০ লাখ) মার্কিন ডলার কিনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
১২২ টাকা ৩০ পয়সায় কেনাবেচা:
সূত্র জানায়, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর পর ডলারের দাম যাতে হুট করে পড়ে না যায়, সেজন্য ‘মাল্টিপল প্রাইস অকশন’ বা একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে এই ডলার কেনা হয়েছে। প্রতি ডলারের দাম ধরা হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। মূলত রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে যেমন ডলারের দাম ধরে রাখছে, অন্যদিকে নিজের রিজার্ভের পাল্লাও ভারী করছে।রেকর্ড ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ:
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে মোট ৩.৯৩ বিলিয়ন (৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ) ডলার সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে শুধু জানুয়ারি মাসেই কেনা হয়েছে ৭৯৮ মিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে ডলার সংকটে যেখানে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছে, সেখানে এখন বাজার থেকে ডলার কেনা অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
কেন এই তোড়জোড়?
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন এবং রপ্তানিকারকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই বাজারকে একটি ‘সুস্থির’ জায়গায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হস্তক্ষেপ। তবে বাজার থেকে এভাবে টাকা দিয়ে ডলার কেনার ফলে বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন বিশ্লেষকরা।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















