
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের আর্থিক খাতের শুদ্ধি অভিযানে বড় পদক্ষেপ নিলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট আর চরম অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা ৩৫টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (NBFI) মধ্যে অবশেষে ৬টিকে লিকুইডেশন বা অবসায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ। তবে এর বাইরে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের শুধরে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে।
সীমাহীন লুটপাট, জালিয়াতি আর আস্থার সংকটে ডুবতে বসা এসব প্রতিষ্ঠানকে টেনে তোলা আর সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল পর্ষদ সভায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিকুইডেশন বা অবসায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর আমানতকারীদের মধ্যে একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরছে, অন্যদিকে পাওনা ফেরত পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
যাদের নাম কাটা পড়লো:
তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং প্রিমিয়ার লিজিং।কেন এই পতন?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই পতনের মূল কারিগর পলাতক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদার ও তার সিন্ডিকেট। তালিকায় থাকা অন্তত ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া ঋণের নামে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে এই চক্র। এছাড়া বেনামী ঋণ, জামানতবিহীন বিনিয়োগ এবং মালিকপক্ষের চরম দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঙ্কালে পরিণত করেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা তুলতে গেলে বছরের পর বছর খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।
টাকা ফেরত পাবেন যেভাবে (লিকুইডেশন প্রক্রিয়া):
এখন সাধারণ গ্রাহকদের মনে একটাই প্রশ্ন— “আমার টাকা কি পাবো?” লিকুইডেশন প্রক্রিয়া সাধারণত যেভাবে কাজ করবে:
১. অবসায়ক (Liquidator) নিয়োগ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ দেখভালের জন্য একজন ‘লিকুইডটর’ বা অবসায়ক নিয়োগ করবে।
২. সম্পদ বিক্রি: প্রতিষ্ঠানের যত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, জমি বা অফিস আছে, সেগুলো নিলামে বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করা হবে।
৩. ঋণ আদায়: লিকুইডটর চেষ্টা করবেন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বড় বড় ঋণ নিয়েছেন, তাদের থেকে টাকা উদ্ধার করতে।
৪. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওনা পরিশোধ: আইন অনুযায়ী, সম্পদ বিক্রির টাকা থেকে সবার আগে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা ও সরকারি ট্যাক্স মেটানো হয়। এরপর সাধারণ আমানতকারীদের (Individual Depositors) পাওনা পরিশোধ করা হয়। সবার শেষে টাকা পান প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা।
আমানতকারীদের জন্য বার্তা:
লিকুইডেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ, তাই সম্পদ বিক্রি করে সব আমানতকারীর শতভাগ টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে ‘আমানত বীমা স্কিম’ (Deposit Insurance Scheme) এর আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সুরক্ষা হিসেবে পাওয়ার আশা রাখতে পারেন।
মতামত: আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ‘শল্যচিকিৎসা’ জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আমানতকারীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখার দাবি উঠেছে।
আরও জানুন_
খেলা ধুলোসহ সব খবর সবার আগে…


















