
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিউজ ডেস্ক|বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং নির্বাচনব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারে একযোগে কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ শীর্ষ উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সরকারের নির্বাচনী রোডম্যাপ।
সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টা ও তিন বাহিনী প্রধানের মতবিনিময়:
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা সেনাসদরের ‘হেলমেট অডিটোরিয়ামে’ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “একটি অংশগ্রহণমূলক ও শঙ্কামুক্ত নির্বাচন উপহার দেওয়া আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।” সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এসময় প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে সেনাপ্রধানের তথ্য:
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ৩,৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে এ পর্যন্ত ২,২৫৯টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেনাপ্রধান জানান, বাকি অস্ত্র ও প্রায় ২ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি, তাই এগুলো যেকোনো মূল্যে উদ্ধার করতে হবে।
প্রশাসনিক রদবদল ও সংস্কার:
নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস। পাশাপাশি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং গত ১৫ বছরের অনিয়মের আইনি সুরাহা নিয়ে কাজ করছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আন্তর্জাতিক মহলের পূর্ণ সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।
সরকারের শীর্ষ মহলের এই তৎপরতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে একটি গ্রহণযোগ্য রূপ দেওয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন…
Facebook Comments Box


















