নিজস্ব প্রতিবেদক |আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় যখন দেশ উত্তাল, ঠিক তখনই দলগুলোর ইশতেহারে ‘পরিবেশ’ রক্ষার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দাবি করলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে ‘রোড টু গ্রিন ম্যানিফেস্টো: রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “উন্নয়নের রঙিন চশমা দিয়ে আর প্রকৃতি ধ্বংস করা যাবে না। দলগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে তারা ক্ষমতায় গেলে কীভাবে নদী, বন আর মানুষের শ্বাস নেওয়ার বাতাস বাঁচাবে।”
উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে সবসময় পরিবেশকে বলি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা ভোটের জন্য জনগণের কাছে যাবেন, কিন্তু মনে রাখবেন—উপকূলের চার কোটি মানুষকে খাবার পানির সংকটে রেখে বা ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।” দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বরং পরিবেশ দূষণরোধে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
সাত দফা ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাতটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- বায়ুদূষণ রোধ: ইটের বদলে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ‘ইউরো-৬’ মানদণ্ড কার্যকর করা।
- শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: পুলিশ সার্জেন্টদের সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দিয়ে নতুন বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
- বন রক্ষা: দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং প্রাকৃতিক বনকে শিল্পায়ন বা অন্য কাজে ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা।
- পলিথিন নিষিদ্ধ: পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে আইনি কঠোরতা বজায় রাখা।
তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা রেখে বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম অনেক বেশি সমাজ সচেতন। আপনাদের কাজ হবে নির্বাচিত সরকারকে প্রতিটি পরিবেশবিরোধী কাজের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা।” তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিবেশের যে ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে, পরবর্তী সরকারকে তা মূল রাষ্ট্রীয় অ্যাজেন্ডায় পরিণত করতে হবে।
উপদেষ্টার হুংকার: > “যদি ভবিষ্যৎ সরকার পরিবেশবান্ধব কাজ করে, আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি পরিবেশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”
সংলাপে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পরিবেশবাদীরাও একমত পোষণ করেন যে, এখন সময় এসেছে রাজনীতিতে ‘সবুজ বিপ্লব’ আনার। ভোটদাতারাও এখন দেখতে চান, কোন দল তাদের সন্তানদের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন…


















