বি,চৌধুরী তুহিন, নোয়াখালী||
নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং জেলায় অব্যাহত শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ‘নোয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শত শত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা রামিসা হত্যার সাথে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, নোয়াখালীতে ইদানীং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই এমন নৃশংসতা বারবার ঘটছে।
সমাবেশে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন:
”একটি সভ্য সমাজে রামিসার মতো নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে প্রাণ দিতে হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা শুধু বিচার চাই না, এমন দৃষ্টান্ত দেখতে চাই যা ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘৃণ্য অপরাধ করতে যে কাউকেও একশবার ভাবাবে। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে।”
অন্যান্য বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয় এবং অপরাধীরা ধরা না পড়ে, তবে পুরো জেলা জুড়ে হরতাল ও অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
মানববন্ধনে জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সংবাদকর্মী এবং সাধারণ অভিভাবকগণ সংহতি প্রকাশ করেন। উপস্থিত সবাই একই সুরে ‘ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’, ‘শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো’ এবং ‘অপরাধীদের ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ সেল গঠন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















