
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী হকার্সমার্কেট এলাকায় পৈত্রিক জমি জবরদখল করে আদালতের আদেশ অমান্য করে পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মো. মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মালিকদের আইনি আবেদনের পরেও আদালতের ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) নির্দেশ উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ: জোরপূর্বক দখল ও বহুতল ভবন নির্মাণ দরখাস্তকারী মো. আজীজুর রহমান মানিক এবং আবুল কালাম আজাদ জিএস (রতন) আদালতে দাখিলকৃত আবেদনে উল্লেখ করেন, তাদের মালিকানাধীন মৌজার মোট ০.১৫ ডিশিমিল জমি—যার মধ্যে ০.০৫ ও ০.১০ ডিশিমিল অংশ তাদের রেকর্ডভুক্ত—অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজ অবৈধভাবে দখল করে নেন।
তাদের অভিযোগ—
জমিটির কোনো মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও মালিকদের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক দখল করে
পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন মাসুদ পারভেজ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জমি সংক্রান্ত সব বৈধ নথি, যেমন—রেকর্ডের অনুলিপি, মালিকানা প্রমাণপত্র, পূর্বের আদালতীয় নথি—সবই তাদের দখলে রয়েছে। তা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ কাঠামো নির্মাণ করছেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ: জমির বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখতে হবেএ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সিভিল রিভিশন নং-৩২৭২/২০২২ মামলায় হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে ‘স্থিতাবস্থা’ জারি করেন।
১৫ জুন ২০২৩ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. জাকির হোসেন আদেশে বলেন—
“আদালত কর্তৃক পূর্বে জারি করা স্থিতাবস্থার আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।”
অর্থাৎ, মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোনো নির্মাণ, পরিবর্তন বা দখল কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ।
তবুও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
অবৈধ নির্মাণ বন্ধ ও উচ্ছেদের আবেদনের দরখাস্তকারীরা আদালতে প্রার্থনা জানিয়েছেন—
অবৈধ নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ,
ইতোমধ্যে নির্মিত পাকা কাঠামো অপসারণ,
আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
আবেদনের তারিখ অনুযায়ী (২৯/১১/২০২২) বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকলেও অবৈধ কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।

এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত টাইটেল স্যুট নং–৪৩/২০০৮ মামলার মাধ্যমে। পরবর্তীতে আপিল—রিভিশন—হাইকোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়, যেখানে পূর্ববর্তী রায় ও ডিক্রি স্থগিত রেখে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ রয়েছে—
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ কোর্ট ও জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জজ আদালতের (২০১৯ ও ২০২২ সালের) রায় চ্যালেঞ্জ করে দাখিলকৃত রিভিশন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময় পর্যন্ত কোনো পক্ষ জমির অবস্থা পরিবর্তন করতে পারবে না।
















