
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক |
দেশের অর্থনীতির পালে হাওয়া লাগাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল এক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই বিশাল অংকের টাকা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের ‘হরি লুট’ বা নয়ছয় না হয়, সেদিকে এবার কঠোর নজরদারি রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রণোদনার এক টাকাও অপচয় বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে দেওয়া হবে না।
মন্দা কাটাতে বড় দাওয়াই
বর্তমানে দেশের অর্থনীতির গতি অনেকটাই মন্থর। বেসরকারি খাতে ঋণের খরা চলছে, কমেছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে। মানুষের আয় না বাড়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস দশা। এমন পরিস্থিতিতে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেই এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সুদের হিসাব ও সরকারি ভর্তুকি
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই তহবিল থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা গড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তবে আসল চমক হলো সুদের ভর্তুকিতে। ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে সরকার নিজেই ৬ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেবে। অর্থাৎ কম সুদে বড় অঙ্কের পুঁজি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিগত সময়ে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের অপব্যবহার নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও এবার কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের ঋণের টাকা সরাসরি গ্রাহকের হাতে যথেচ্ছ ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে না।
- এসক্রো হিসাব: ঋণগ্রহীতা গ্রাহকদের আয় জমা হবে একটি নির্দিষ্ট ‘এসক্রো’ (Escrow) অ্যাকাউন্টে।
- নিয়ন্ত্রিত খরচ: এই হিসাব থেকে চাইলেই কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা সরিয়ে নিতে পারবে না।
- আগে কিস্তি পরে বাকি: এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া টাকা থেকে প্রথমে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি কেটে রাখা হবে। এরপর অবশিষ্ট টাকা গ্রাহক ব্যবহার করতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে সবটাই নির্ভর করছে বাস্তবায়নের ওপর। যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে এই ঋণ পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়, তবেই অর্থনীতির মোড় ঘুরে যাবে। অন্যথায় এই বিশাল অর্থও খেলাপি ঋণের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















