স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা ||
অবশেষে শেষ রক্ষা হলো না। শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর পালিয়ে বেড়ানো সেই নরপিশাচ সোহেল রানা এখন পুলিশের জালে। ঢাকা থেকে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে ডেরা বেঁধেও রেহাই পায়নি এই খুনি। গতকাল ডিবি পুলিশ ও পল্লবী থানা পুলিশের একটি যৌথ দল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পল্লবীর সেই ফ্ল্যাটে রামিসাকে হত্যার পর গা ঢাকা দিয়েছিল সোহেল রানা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে সে ফতুল্লার একটি শ্রমিক কলোনিতে আত্মগোপন করে আছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানিয়েছে, হত্যার পর সে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিল। সেখানে এক পরিচিতের আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পুলিশের তড়িৎ তৎপরতায় সেই সুযোগ আর মেলেনি।
গতকাল কড়া পুলিশি পাহারায় সোহেল রানাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে সে নিজের জঘন্য অপরাধ কবুল করে। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পল্লবীর সেকশন-১১-এর ‘বি’ ব্লকের বাসিন্দাদের দাবি, কেবল গ্রেপ্তার নয়, দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন করে সোহেল রানার ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার পল্লবীর ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে খুন হয় ৮ বছরের শিশু রামিসা। এই ঘটনায় এলাকাটিতে এখনও শোক আর ক্ষোভের ছায়া বিরাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে নিন্দার ঝড়। বিচারপ্রার্থী মানুষের একটাই স্লোগান— ‘জাস্টিস ফর রামিসা’। প্রতিটি অপরাধীর বিচার হোক এমন দৃষ্টান্তমূলকভাবে, যেন আর কোনো রামিসাকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়। এখন দেখার বিষয়, আইনের শাসনের হাত ধরে কতটা দ্রুত এই নিষ্পাপ শিশুর রক্তের ঋণ শোধ হয়।
আরও জানতে চোখ রাখুন…

















