
আহসান হাবীব, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ )প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা আজ যেন নতুন করে জেগে উঠছে। দীর্ঘ ৫০ বছরে যা সম্ভব হয়নি, মাত্র কয়েক মাসেই তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আজাহার আলী। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন কেবল একজন প্রশাসক নন, বরং একজন খেলোয়াড়সুলভ মানবিক এবং ‘সুপারম্যান ইউএনও’।
ঐতিহাসিক কানসাট জমিদার বাড়ি অর্ধশতাব্দী পর ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য। একসময় অবহেলিত ও ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকা এই বাড়ি সংস্কারের মাধ্যমে আজ পর্যটনের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ কেবল শিবগঞ্জ নয়, বরং গোটা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করবে।
তবে ইউএনও মোঃ আজাহার আলীর কাজ শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সামাজিক কুসংস্কার ও বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রেখেছেন অসাধারণ অবদান। নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারির ফলে উপজেলায় বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছেন। নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক আসর এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ আজ এক আনন্দমুখর পরিবেশে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মোঃ আজাহার আলী শুধু একজন প্রশাসক নন; তিনি সমাজের উন্নয়ন, ঐতিহ্য রক্ষা এবং মানুষের জীবনধারায় বাস্তব পরিবর্তন আনার এক প্রতীক। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি শিবগঞ্জকে এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে।
শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষ গর্বের সঙ্গে বলছেন—
“৫০ বছরে যা হয়নি, তিনি কয়েক মাসেই তা সম্ভব করেছেন। আমাদের ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি সংস্কার করে তিনি আমাদের মনের কথা বুঝেছেন। যেকোনো প্রয়োজনে আমরা তাঁর কাছে গেলে তিনি সবসময় দ্রুত সমাধান দেন। এমন একজন ইউএনওকে পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত।”
আজ শিবগঞ্জের উন্নয়ন, ঐতিহ্য আর আনন্দময় পরিবেশের পেছনে রয়েছে এক নাম— ‘সুপারম্যান ইউএনও মোঃ আজাহার আলী’।


















