মো.জাহিদুর রহিম মোল্লা, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের বাঘিয়া গ্রামে ননদ–ভাবীর বিবাদের জেরে ঘটেছে এক ভয়াবহ ঘটনা। নিয়মিত পারিবারিক দ্বন্দ্বের পর পূর্ণমাত্রায় বিস্ফোরিত হয় শনিবার সকাল ১১টার দিকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ননদের কামড়ে ছিঁড়ে যায় ভাবীর ঠোঁটের মাংস, যা মুহূর্তেই এলাকায় আলোড়ন তোলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বসীর সরদারের মেয়ে পারুলী বেগম বেশ কিছুদিন ধরেই শ্বশুরবাড়িতে বিভিন্ন কারণে নির্যাতন ও কলহের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। ঘটনার দিন তুমুল বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ননদ চুলের মুঠি ধরে টানেন; পাল্টা প্রতিরোধে উত্তেজনা আরও বাড়ে। হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ননদ পারুলীর ঠোঁটে কামড় বসান।
রক্তাক্ত অবস্থায় ঠোঁটের বাম পাশ প্রায় ছিঁড়ে ঝুলে পড়ে।
গুরুতর অবস্থায় পারুলীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সিনিয়র সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকার জানান—
“ছিঁড়ে যাওয়া অংশে রিকনস্ট্রাকশন করা হয়েছে। তবে পুরো টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগের মতো অবিকল স্বাভাবিক রূপে ফেরানো সম্ভব নাও হতে পারে।
হাসপাতালে শয্যায় শুয়ে পারুলী জানান—
“আমি ন্যায়বিচার চাই। যেটা করেছে, এর বিচার না হলে কেউ নিরাপদ না।”
তিনি ইতোমধ্যে পুলিশে গেছেন বলেও জানান।
রাজবাড়ী সদর থানার কর্মকর্তা বলেন, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
ঘটনার পর থেকেই বাঘিয়া এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ননদ–ভাবীর কলহ অনেক ঘরেই থাকে, কিন্তু এমন ভয়াবহ রূপ বহুদিন দেখা যায়নি।


















