
🌏 নিউজ ডেস্ক | বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম |
বছর ঘুরে আবার এলো ফেব্রুয়ারি। বাঙালির জীবনে মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে মাসটির পরিচিতিভাষার মাস হিসেবে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জীবন উৎসর্গ করা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও নাম না জানা আরো অনেকের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। ভাষা আন্দোলনের এ মাসেসব ভাষা শহীদের স্মৃতিকে বিশেষভাবে স্মরণ করে পুরো বাংলাদেশ ।
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসকে ঘিরে প্রতিবছর এ মাসের শুরু থেকেই নানা কর্মসূচিরআয়োজন হয়ে থাকে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছেছড়িয়ে দেওয়া হয়।
উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা–তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের এমন ঘোষণা বাংলার সাধারণমানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। বাংলা ভাষার সমান মর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলার ছাত্র–জনতা রাজপথে নেমেপড়েন। দেশের প্রতিটি শহর–বন্দরে চলতে থাকে মিটিং–মিছিল। বিপরীতে এই আন্দোলন দমনে নিপীড়নের পথবেছে নেয় তৎকালীন সরকার। ঢাকা শহরে নিষিদ্ধ করা হয় মিছিল–সমাবেশ। তবে, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ১৯৫২সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় নামে প্রতিবাদী জনতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে পাকিস্তান সরকারের আরোপিত ১৪৪ ধারা ভেঙেবিক্ষোভ শুরু করেন। স্কুল–কলেজের হাজার হাজার ছাত্র সমবেত হয়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ‘রাষ্ট্রভাষাবাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। এতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, ছাত্রছাত্রীরাইট–পাটকেল ছুড়ে তার জবাব দেয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের আটকাতে ব্যর্থ হয়ে মিছিলের ওপর গুলি চালায় পুলিশ।গুলিতে রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, আবুল বরকত, আবদুস সালামসহ আরো অনেকে প্রাণ হারায়।পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
১৯৫২ সালের পর থেকে ভাষার জন্য আত্মত্যাগের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়েআসছে। দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেসরকারিভাবে পালিত হয়। এর ফলে বাংলাদেশের গণ্ডির বাইরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে ভাষাআন্দোলন।
ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদমিনারসহ রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা শহরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি চলবে পুরোমাস ধরে।
এদিকে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে এইবইমেলা শুরু হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি। নতুন নির্বাচিত সরকারপ্রধান এবারের বইমেলার উদ্বোধন করবেনএমন প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানায় বইমেলার আয়োজন সংস্থা বাংলা একাডেমি।
এছাড়া প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিকমাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাএকাডেমিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, দিবসটি সুষ্ঠুভাবে উদযাপন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেশান্তি–শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আজম উদ্দীন তালুকদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেজানানো হয়, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিকমাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় দিবসটির গুরুত্ব বেড়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো দিবসটিযথাযোগ্য মর্যাদায় সারা দেশে উদযাপন করা হবে।
একুশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ভাষা পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে৮টায় অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পদযাত্রা শেষ হবে।
অমর একুশে প্রতীকী বইমেলা
আজ রোববার প্রতীকী বইমেলা বসছে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চ চত্বরে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যাপর্যন্ত এই বইমেলা চলবে। একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ এই মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় অর্ধশতপ্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় অমর একুশের গান, আবৃত্তি, নাটক, বক্তৃতাচলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন …
সংবাদটি শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন।


















