
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেগে ওঠা সানারচর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়, উপকূলীয় বন্যপ্রাণীরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভয়ারণ্য। তবে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলেই দীর্ঘদিন ধরে বুনো মহিষ শিকার করে মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ বন বিভাগ ও স্থানীয়দের।
২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সরকার সানারচরকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। বিস্তীর্ণ বনভূমি, খাল-ক্যানাল এবং প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত নিয়ে গঠিত এই এলাকা বর্তমানে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখানে শত শত বুনো মহিষের বসবাস।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ফাঁদ ও রশি ব্যবহার করে এসব মহিষ শিকার করে মাংস বিক্রি করছে। গত এক বছরে একাধিক মামলা, অভিযান ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও শিকার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ একটি বুনো মহিষ চুরি করে জবাই ও মাংস বিক্রির ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে মহিষের মাংস ও চামড়ার অংশ উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২০২৬ সালের ২২ মার্চ সানারচর বিট এলাকায় আবারও ফাঁদ পেতে মহিষ শিকার ও মাংস পাচারের অভিযোগে বন বিভাগ নতুন মামলা করে। এতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
সর্বশেষ গত ৪ জুন মহিষের মাংসসহ একজনকে আটক করে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক অভিযান ও মামলার পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বুনো মহিষ শিকার।চরমোন্তাজ রেঞ্জের সানারচর বিট কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।পরিবেশবিদ মো. মাহাসিন তালুকদার বলেন, বুনো মহিষ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটুয়াখালী জেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।
মামলা, অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও সানারচরের বুনো মহিষ শিকার বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এখন দেখার বিষয়, বন বিভাগের চলমান উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে এই সংঘবদ্ধ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…

















