
🌐 নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দুটি তারা সুপারনোভা হিসাবে বিস্ফোরিতএবং সম্ভবত একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে।

মিশরীয় বিশৃঙ্খলার দেবতা ‘অ্যাপেপ’-এর নামে নামকরণ করা এ তারাপুঞ্জ পৃথিবীথেকে প্রায় আট হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ছবি: নাসা
চার স্তরওয়ালা মহাজাগতিক ধূলিকণার খোলসের কেন্দ্রে থাকা বুড়ো এক বাইনারিতারা ব্যবস্থার ছবি তুলেছে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশের এমন সব ছবি আমাদের দেখিয়েছে, যা অন্যভাবে দেখার সুযোগ আমাদের হয়ত হত না। টেলিস্কোপটির তোলা বিস্ময়করনতুন ছবির মধ্যে একটি হচ্ছে, আমাদের ছায়াপথের এক অস্বাভাবিক তারা ব্যবস্থা, যেটিকে ‘ধুলার চারটি পেঁচানো সর্পিলাকার কাঠামো’ বলে বর্ণনা করেছে নাসা।
মিশরীয় বিশৃঙ্খলার দেবতা ‘অ্যাপেপ’-এর নামে নামকরণ করা এ তারা ব্যবস্থাটিপৃথিবী থেকে প্রায় আট হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এ ব্যবস্থার আগেরপর্যবেক্ষণে কেবল একটি খোলসের দেখা মিলেছিল কলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
তবে নাসার ওয়েব টেলিস্কোপে ধারণ করা মিড–ইনফ্রারেড ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এতেআসলে চারটি খোলস রয়েছে, যার বাইরেরটি রয়েছে ঠিক ছবির শেষ প্রান্তে। এসবখোলস গত সাতশ বছরে এ ব্যবস্থার দুটি ‘উলফ–রায়েট’ তারা থেকে নির্গত ঘন কার্বনধুলা দিয়ে তৈরি।
বিশাল ভরওয়ালা তারাকে ‘উলফ–রায়েট’ বলে, যা এদের জীবনের একেবারে শেষদিকে পৌঁছে গিয়েছে। এগুলো খুবই বিরল ও বিজ্ঞানীদের অনুমান, আমাদের ছায়াপথেএ ধরনের কেবল এক হাজার তারা রয়েছে। ‘অ্যাপেপ’ সিস্টেমে রয়েছে এমন দুটি তারা।
সম্প্রতি এ সিস্টেমটি নিয়ে নিজেদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন ‘ক্যালিফোর্নিয়াইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা ক্যালটেকের ইনুও হ্যান ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনির‘ম্যাকোয়ারি ইউনিভার্সিটি’র রায়ান হোয়াইট।
চিলিতে অবস্থিত ‘ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ বাভিএলটি–এর বহু বছরের তথ্যের সঙ্গে জেমস ওয়েবের পর্যবেক্ষণের বিভিন্নপরিমাপকে একসঙ্গে করে গবেষকরা বলছেন, দুটি তারা প্রতি একশ ৯০ বছরে একবারএকে অপরের কাছে এসে ‘আবর্তন করে’। এরপর তারা দুটি প্রায় ২৫ বছর ধরে একেঅপরের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে এদের শক্তিশালী নাক্ষত্রিক বাতাস একে অপরেরসঙ্গে ধাক্কা খায় এবং সেই সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ কার্বনওয়ালা ধুলা নির্গত করে।
ওয়েব টেলিস্কোপের এ পর্যবেক্ষণে এ সিস্টেমে তৃতীয় তারার উপস্থিতিও নিশ্চিত করতেপেরেছেন গবেষকরা, যা মহাকর্ষীয়ভাবে অন্য দুটি উলফ–রায়েট তারার সঙ্গে জড়িত।
তৃতীয় তারাটি আমাদের সূর্যের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ গুণ বড় বিশাল একসুপারজায়ান্ট এবং এটি সেই ধুলার খোলসের মধ্যে একটি গহ্বর তৈরি করেছে, যাদেখতে ফানেলের মতো।
‘অ্যাপেপ’ সিস্টেমের উলফ–রায়েট তারাগুলো আগের সুপারজায়ান্ট তারাটির চেয়েওবড় ছিল। তবে তখন থেকে নিজেদের বেশিরভাগ ভর হারিয়েছে এরা এবং এখন এদেরভর আমাদের সূর্যের ভরের কেবল ১০ থেকে ২০ গুণ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দুটি তারা সুপারনোভা হিসাবে বিস্ফোরিতএবং সম্ভবত একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
মন্তব্য করুন


















