
রিয়াজুল সোহাগ, প্রতিবেদক।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ১২ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি নিয়মিত সাফল্য বলে মনে হলেও এটি আমাদের পুরো মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি গভীর ও মৌলিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে।
আজকের বাস্তবতা হলো, আমরা কেবল খুচরা বিক্রয়কারী কিংবা সেবনকারীদের গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়ার ঘূর্ণাবর্তে আটকে আছি। একজন তরুণ সেবনের দায়ে ধরা পড়ে, জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বড় অপরাধ বা আসক্তির সাগরে তলিয়ে যায়। রিহ্যাব সেন্টার, পুলিশ বা ডিবি দিয়ে কেবল শহরের অলিগলিতে তল্লাশি কিংবা সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি কেবল সমস্যার উপসর্গ নিরাময়ের চেষ্টা, আসল রোগের চিকিৎসা নয়।
মাদকমুক্ত দেশ গড়তে হলে সরকারকে ‘নিয়ন্ত্রণ’-এর লোকদেখানো মানসিকতা ছেড়ে ‘সম্পূর্ণ নির্মূল’-এর নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে ১০০ ভাগ সদ্বিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। মূল পদক্ষেপগুলো হওয়া উচিত:
- সীমান্তে কঠোর নজরদারি: আমাদের দেশে মাদক উৎপাদিত হয় না; প্রায় সব ধরনের মাদকই সীমান্ত সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। তাই কসবা বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সীমান্ত সংলগ্ন পথগুলো সম্পূর্ণ সিলগালা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। সীমান্ত না বাঁধলে ভেতরে গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে কোনো লাভ হবে না।
- সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ: সীমান্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সৎ, দক্ষ ও আপসহীন কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে, যাতে যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ শিথিলতা বা অবৈধ সুবিধা নেওয়া বন্ধ হয়।
- মাদক কারবারের মূল উৎস নির্মূল: খুচরা বিক্রেতা বা আসক্ত তরুণদের চেয়েও যারা মাদকের মূল সিন্ডিকেট পরিচালনা করে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
শুধু অভিযান আর জনহয়রানি নয়, সীমান্তে কঠোর পাহারা এবং প্রশাসনিক সততাই পারে বাংলাদেশকে মাদকের অভিশাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে।
মন্তব্য: মোহাম্মদ রিয়াজুল সোহাগ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, আপডেট বিডিনিউজ ২৪
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















