
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা নাকি ভোটের রাজনীতি? ব্রিটিশ সরকারের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এখন উত্তাল খোদ ব্রিটেন। দীর্ঘ ৮০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বন্ধুপ্রতীম আমেরিকার সাথে যুক্তরাজ্যের ‘বিশেষ সম্পর্কে’ বড় ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে দলীয় ভোটের অংককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান ব্রিটিশ ক্যাবিনেট।
খবর পাওয়া গেছে, ইরানবিরোধী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে ব্রিটেনকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রেখেছে আমেরিকা। আধুনিক ইতিহাসে এর আগে কখনো ওয়াশিংটন তাদের সবথেকে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে এভাবে ‘অন্ধকারে’ রাখেনি। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে— ব্রিটিশ ক্যাবিনেটের প্রতি আমেরিকার চরম আস্থাহীনতা।
ভোটের অংকে জাতীয় নিরাপত্তা: চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের চ্যান্সেলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী আমেরিকার সাথে ‘বেশি ঘনিষ্ঠ’ হতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই অভিযানে সরাসরি সমর্থন দিলে আসন্ন নির্বাচনে লেবার পার্টির ভোট ব্যাংকে ধস নামতে পারে। এমনকি শুরুতে তারা রাফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়ার মতো কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতেও গড়িমসি করেছেন বলে জানা গেছে।
চার্চিল নন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি মন্তব্য করেছেন— বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই ‘উইনস্টন চার্চিল’ নন। প্রেসিডেন্টের এই কড়া সমালোচনা এখন ব্রিটিশ আমজনতার মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ব্রিটিশদের দাবি, নেতার উচিত জাতীয় স্বার্থে কাজ করা, ভোটের ক্যালকুলেটর হাতে নিয়ে নয়।সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় এবং ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার অনুমতি দেয়।
তবে ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমেরিকা কারো জন্য অপেক্ষা না করেই তাদের অভিযানে এগিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে বর্তমান ক্যাবিনেট বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই মৈত্রীকে একবিংশ শতাব্দীতে এসে কেবল স্মৃতিতে পরিণত করার ঝুঁকিতে ফেলেছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…

















