
‘শিক্ষা বিস্তার ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়’
স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের আধ্যাত্মিক সাধনার প্রাণপুরুষ, উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা সৈয়দুল আজম হযরত হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহঃ)-এর যোগ্য উত্তরসূরী ও সাহেবজাদা, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পীরে তরিকত রাহনুমায়ে শরীয়ত হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহঃ)-এর ১৮তম ওরশ শরীফ মহাসমারোহে সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) ২০ মহররম দরবার শরীফে হাজারো ভক্ত, মুরিদান ও আশেকানের উপস্থিতিতে এই ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।
ওরশ শরীফের দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র খতমে কোরআন, খতমে তাহলীল, খতমে ইউনুছ, খতমে সূরা ইখলাস, খতমে খাজেগান ও খতমে গাউছিয়া শরীফ। বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় হুজুর কেবলার জীবনী আলোচনা, প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরামদের ওয়াজ নসিহত, মিলাদ মাহফিল, আখেরী মোনাজাত ও তবারুক বিতরণ।
মাহফিলে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তার, ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ, সমাজকল্যাণ ও তরিকত চর্চায় হযরত শাহ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহঃ) সবসময় অগ্রগামী ছিলেন। দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রচার-প্রসারে বেতাগী আস্তানা শরীফ অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। শরীয়ত ও তরিকতের খেদমতের পাশাপাশি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তারা আরও জানান, হুজুর কেবলা প্রতিষ্ঠিত ‘বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়া’ বর্তমানে ৩৫টি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে।
ওরশ শরীফের মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’র প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে তরিকত মাওলানা মুহাম্মদ নুর মুহাম্মদ আল কাদেরী, হাটহাজারী দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত আল্লামা আমিনুল হক আল কাদেরী, এডভোকেট এ.এফ. মঈনুদ্দিন আহমদ, লোহাগাড়া হযরত শাহ পেঠান (রহঃ) দরবারের সাজ্জাদানশীন শাহজাদা দোস্ত মোহাম্মদ কবির, মাওলানা ফেরদৌস আলম আলকাদেরী, হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মুহাম্মদ এনামুল হক সিদ্দীকি, অধ্যক্ষ আল্লামা মারেফাতুন নুর, অধ্যক্ষ আল্লামা ইলিয়াছ নুরী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুফতী আলী আকবর, উপাধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিন আবেদী, মাওলানা জাফর আহমদ মানিকী ও মাওলানা শাহ ইসমাইল সিরাজী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা গোলাম আলী, শাহজাদা শফিকুর রহমান, শাহজাদা মুহাম্মদ হাসান, শাহজাদা মুহাম্মদ হোসাইন, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ সারোয়ার আজম, মাওলানা মাহফুজুল হক আলকাদেরী, মাওলানা আবдуস সালাম, ফতেপুর দরবার শরীফের শাহজাদা ফকরে শামসুল আরেফীন, মাওলানা কুতুব উদ্দিন, মাওলানা আবдуশ শাকুর, মাওলানা আরিফুর রহমান রাশেদ, মাওলানা হাফিজুর রহমান রুমী, মাওলানা আবু জাফর, মাওলানা সাইফুল ইসলাম আলকাদেরী, মাওলানা প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হাফেজ আবদুল হাই ও মাওলানা এনামুল হক কাদেরী।
দরবারের মোন্তাজেম ও মেজ শাহজাদা মাওলানা আহমদ উল্লাহ জিয়াউর রহমান আবুশাহ, শাহজাদা শাহ আহসান উল্লাহ (শাহচান্দ), শাহজাদা মাহবুবুর রহমান ছফিউল্লাহ (মাওলানা), শাহজাদা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান (পেঠান শাহ), বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম সিকদার, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউল করিম বাবর, আলমশাহ, মোহাম্মদ হাশেম কন্ট্রাক্টর, বখতিয়ার সওদাগর, ডাঃ মোহাম্মদ ইউছুফ, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ হারুন, মাস্টার দেলওয়ার হোসাইন সাইফু, মাওলানা আহমদ করিম নঈমী, মাওলানা আবু জাফর বাদশা, মাওলানা তারেকুল ইসলাম, শাহজাদা বদরুদ্দিন, মোহাম্মদ বদরুর রহমান মহিউদ্দিন জিলি, শাহজাদা হাফেজ কামরুল আরশ মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান জিলান এবং শাহজাদা এ বিএম সিদ্দিকুর রহমান সাকলাইন সহ সুধীজন ও লাখো ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলে মিলাদ ও কিয়াম পরিচালনা করেন শাহজাদা কামরুল আরশ মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান জিলান। সবশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন বেতাগী আস্তানা শরীফের সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত মাওলানা মোহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ (মাঃজিঃআলী)।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
Facebook Comments Box
















