
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যানবেরা| অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ব্রিজিং ভিসা’ (Bridging Visa) দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ বা সীমিত করার একটি নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে। দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা এবং আবাসন সংকটের ওপর চাপ কমাতে অস্ট্রেলীয় সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাধারণত, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং পরবর্তী নতুন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আইনিভাবে দেশটিতে থাকার জন্য ‘ব্রিজিং ভিসা’ দেওয়া হয়। তবে নতুন এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার (Visa Hopping) প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ:অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড সংখ্যক স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসী প্রবেশের পর দেশটির সরকার সামগ্রিক নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন (NOM) কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
আবাসন ও জীবনযাত্রার সংকট: দেশটিতে বর্তমানে তীব্র আবাসন ও ভাড়া সংকটের জন্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের অতিরিক্ত সংখ্যাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করার পর বা কোর্স পরিবর্তন করে বারবার ব্রিজিং ভিসার আশ্রয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করেন, যা সরকার বন্ধ করতে চায়।
### শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব:
এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে যারা পড়াশোনা শেষ করে কাজের ভিসার জন্য আবেদন করছেন বা উচ্চতর কোর্সে ভর্তি হতে যাচ্ছেন, তারা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। নতুন ভিসার সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তাদের নিজ দেশে ফিরে অপেক্ষা করতে হতে পারে, যা পড়াশোনা এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় বড় ব্যাঘাত ঘটাবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত এবং দক্ষ জনশক্তির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এমন কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এতে কিছু সংশোধন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরও জানতে সাথে থাকুন…

















