
প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশেরও বেশি উজ্জ্বলদেখাতে পারে সুপারমুন।
এ সপ্তাহে রাতের আকাশে দেখা যাবে এ বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল চাঁদ বাসুপারমুন।
২০২৫ সালে তিনটি পরপর সুপারমুনের মধ্যে দ্বিতীয়টি দেখা যাবে এই বুধবার বাব্রিটিশ উৎসব ‘বনফায়ার নাইটের’ দিন। এদিন একদিকে আকাশে বড় ও উজ্জ্বলসুপারমুন ঝলমল করবে ও অন্যদিকে ইউরোপবাসী উদযাপন করবে বনফায়ার নাইট।ফলে রাতটি আলো আর রঙের দারুণ মেলবন্ধন হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছেবিবিসি।
চাঁদ যখন নিজের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে, সেই সময়পূর্ণিমা হয়। আর ওইসময় চাঁদ সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বড় আর ঝলমলেদেখায়। ফলে এ সপ্তাহের রাতগুলো হবে একটু বেশি আলো ঝলমলে ও মোহনীয়।
এ প্রাকৃতিক দৃশ্যটি দেখতে চাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নজর রাখতে হবেপৃথিবীবাসীকে। কারণ, কোথায় আকাশ সবচেয়ে পরিষ্কার থাকবে তা জানা গেলেইচাঁদ দেখার জন্য সেরা জায়গা বেছে নিতে সুবিধা হবে।
এই চাঁদকে কেন ‘সুপারমুন’ বলা হয়?
চাঁদ পৃথিবীকে একদম বৃত্তাকার পথে আবর্তন করে না। চাঁদের কক্ষপথ কিছুটাডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার। ফলে চাঁদ সবসময় পৃথিবী থেকে সমান দূরত্বে থাকে না, কখনো একটু কাছে আসে, আবার কখনো একটু দূরে চলে যায়।
চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে তখন সেই অবস্থাকে বলে ‘পেরিজি’। এ সময়পৃথিবী থেকে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার মাইল দূরে থাকে চাঁদ। আর পৃথিবী থেকেচাঁদের দূরে চলে যাওয়ার অবস্থাকে বলে ‘অ্যাপোজি’। এ সময় দূরত্ব হয় প্রায় দুই লাখ৫০হাজার মাইল।
চাঁদ যদি পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে বা পেরিজির ৯০ শতাংশকাছাকাছি থাকে তাকে বলে ‘সুপারমুন’। এ সময় আকাশে চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার চেয়েবড় ও উজ্জ্বল দেখায়।
‘সুপারমুন’ শব্দটি প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ সালে ব্যবহার করেন জ্যোতিষী রিচার্ডনোল। তিনি এমন এক পূর্ণিমাকে বোঝাতে এই নামটি দিয়েছিলেন, যা চাঁদ যখনপৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে তখন দেখা যায়। ফলে তা সাধারণ পূর্ণিমার চেয়ে বড় ওউজ্জ্বল হয়।
সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশেরও বেশি উজ্জ্বলদেখাতে পারে সুপারমুন।

এ সপ্তাহের রাতগুলো হবে একটু বেশি আলো ঝলমলে ও মোহনীয়। ছবি: রয়টার্স
নভেম্বরের এই সুপারমুনকে ‘বিভার মুন’ও বলা হচ্ছে, যা হবে এ বছরের পৃথিবীরসবচেয়ে কাছে আসা পূর্ণিমা। ফলে এ সময় চাঁদকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও আকাশেসবচেয়ে বড় দেখাবে। উত্তর গোলার্ধের বড় আকারের আধা–জলচর প্রাণী হচ্ছেবিভার।
কেন এটিকে ‘বিভার মুন’ বলা হয়?
প্রকৃতি ও আবহাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটি মাসের পূর্ণিমারই নামকরণ করেনবিজ্ঞানীরা। এসব নামের অনেকটি শতাব্দী আগ থেকে চলে আসছে। কিছু নাম সহজেবোঝা যায়, যেমন ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’ বা জুনের ‘স্ট্রবেরি মুন’। আবার কিছু নামবোঝা তুলনামূলকভাবে কঠিন।
নভেম্বরের পূর্ণিমাকে ‘বিভার মুন’ বলার কারণ হচ্ছে, এ নামটি বিভিন্ন সংস্কৃতিতেব্যবহৃত হত। কিছু আদিবাসী আমেরিকান গোত্র থেকে শুরু করে প্রাথমিক ইউরোপীয়বসবাসকারীদের মধ্যেও এ নামের চল রয়েছে।
নভেম্বরের এ সময়ে বিভাররা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। নিজেদের বাঁধ তৈরি ওশীতের জন্য খাদ্য সংরক্ষণ করে তারা। ফলে এই পূর্ণিমার সঙ্গে তাদের কার্যকলাপমিলিয়ে এ নামটি এসেছে।
১৬শ শতকে যুক্তরাজ্যে বিভার শিকার করা হত তাদের চামড়া পাওয়ার জন্য। এদেরএত বেশি শিকার করা হয়েছে, যে কারণে দেশটিতে বিলুপ্ত হয়ে যায় এসব প্রাণী।
নভেম্বরের পূর্ণিমা ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল পূর্ণিমা হলেও পরবর্তী পূর্ণিমারজন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না আমাদের। এ বছরের তৃতীয় ও শেষ সুপারমুনদেখা যাবে ৪ ডিসেম্বর।


















