
নিউজ ডেস্ক: শরীয়তপুর সদর উপজেলায় প্রেমিকার বিয়ে ভাঙতে গেলে সুলাইমান মুন্সী নামে এক যুবককে আটকে গণধোলাই দিয়ে পালং মডেল থানায় সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। পরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার শরীয়তপুর সদর উপজেলার মধ্য চরসুন্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুলাইমান মুন্সী শরীয়তপুর সদর পৌরসভার কাশাভোগ গ্রামের মোতালেব মুন্সীর ছেলে।
স্থানীয়, ভুক্তভোগীর পরিবার ও পালং মডেল থানার এএসআই একে আজাদ জানান, সুলাইমান মুন্সী নিজের স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় গোপন করে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাদের কিছু একান্ত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে ওই ছাত্রী সুলাইমানের প্রতারণার কথা জানতে পেরে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন।
সম্প্রতি ওই ছাত্রীর পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করেন। রোববার তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বিয়ে ভাঙার উদ্দেশ্যে সুলাইমান পাত্রপক্ষকে তাদের গোপন ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের দিন সকালে তিনি সরাসরি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় তার প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পেলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে গণধোলাই দেন। এরপর পালং মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে বিকালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমি তার বিয়ের কথা জানার পর সম্পর্ক রাখতে চাইনি; কিন্তু সে আগের ছবি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করত। বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে প্রায় এক লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার মেয়ের জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে সুলাইমান। আমি তার কঠিন শান্তি চাই, যেন আর কেউ এমন করতে না পারে।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, জনতার হাত থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুলাইমানকে আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


















