
মো.জাহিদুর রহমান মোল্লা,রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি|
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া। রোগীদের ওষুধ না পাওয়া, খাবারের নিম্নমান আর সরকারি ফি’র নামে পকেট কাটার মহোৎসব চলছে সেখানে। এমন অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিনভর হাসপাতালটিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বেরিয়ে এসেছে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলা নানা ‘অন্ধকার’ চিত্র।
ছদ্মবেশে দুদকের ‘অপারেশন’
ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুদক টিমটি প্রথমে সরাসরি পরিচয় না দিয়ে সাধারণ রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করেন। ছদ্মবেশ খুলে দুদক কর্মকর্তারা যখন নথিপত্রে হাত দেন, তখন বেরিয়ে আসে আসল থলের বিড়াল।
দুদক টিমের দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার তল্লাশিতে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে:
- ওষুধ উধাও: রোগীরা অভিযোগ করেছেন, প্রেসক্রিপশনের অধিকাংশ ওষুধই তাদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। অথচ হাসপাতালের স্টক রেজিস্টারে ওষুধের মজুত দেখানো হচ্ছে। বিতরণ রেজিস্টারেও মিলেছে বড় ধরনের গরমিল।
- ফি বাণিজ্যের সত্যতা: সরকারিভাবে নির্ধারিত ইউজার ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন হাসপাতালের হিসাব ক্লার্ক। এ বিষয়ে হাতেনাতে প্রমাণ পায় দুদক টিম।
- খাবারের নামে নয়ছয়: রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সদুত্তর নেই কর্মকর্তার কাছে
অভিযানকালে অনিয়ম নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। হাসপাতালের নথিপত্র এবং স্টক রেজিস্টার জব্দ করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফরিদপুর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ ও সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম জানান, প্রতিটি বিভাগ খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের উপপরিচালক রতন কুমার দাস বলেন,
”অভিযানে পাওয়া তথ্য ও অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন বরাবর দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















