
সামান্য বৃষ্টিতেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় প্রাঙ্গনে কৃত্রিম বন্যা; আধুনিক ড্রেন এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র ও ময়লার ভাগাড়
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিউজ ডেস্ক24||
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ যখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, ঠিক তখন নোয়াখালী সদর পৌরসভায় দেখা যাচ্ছে এক নির্মম চিত্র। পৌরসভার চরম উদাসীনতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশায় সামান্য বৃষ্টিতেই নোয়াখালী জেলা শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ‘জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়’ প্রাঙ্গণে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বন্যা। দপ্তরের সামনে আধুনিক ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার না করায় এখন তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক স্থায়ী অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

আধুনিক বিশ্ব বনাম পৌরসভার আদিম রূপ
বিশ্বজুড়ে যখন প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচল ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে,
তখন নোয়াখালী পৌরসভার চিত্র ঠিক উল্টো। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সামনের ড্রেনটি স্লাব দিয়ে ঢাকা থাকলেও ভেতরে পানির কোনো প্রবাহ নেই। চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও ময়লা-আবর্জনা জমে ড্রেনের মুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় ড্রেনটি এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
দুর্ভোগে কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই জানিয়েছেন একটু মাঝারি বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচে পুরো সড়ক ও কার্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটু সমান নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে যায়। ডিজিটাল যুগের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন অফিসে ঢুকতে হচ্ছে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতো হাতে নিয়ে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও নারী কর্মীদের ভোগান্তি আরও তীব্র। সরকারি জরুরি নথিপত্র নিয়ে এই নোংরা পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রক মো.আসিফ ইকবাল বলেন কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় সাধারন মানুষের ক্ষোভ আধুনিক যুগে বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক এবং জরুরি ও বটে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক দূষণ ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ করেই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব শেষ মনে করেছে, কিন্তু তা সচল রাখার কোনো উদ্যোগ নেই। অবিলম্বে এই ড্রেনটি পরিষ্কার করে আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নোয়াখালী পৌরসভা কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















