
বিশেষ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনকে (৪৫) কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হোটেলের ক্যাশ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে চৌমুহনী-ফেনী রোডের আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার কক্ষে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নওয়াজপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— হাসান মাহমুদ শুভ (৩৫), বাবু (৩৫), এনামুল হক লালন (৩২) ও মহদী হাসান (৩০)। তারা সবাই চৌমুহনী পৌরসভার বাসিন্দা ও মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, হোটেলের অন্যতম পার্টনার হাসান মাহমুদ শুভ দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। অন্য পার্টনাররা তাকে হিসাব ছাড়া টাকা দিতে নিষেধ করায় শুভ ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। শনিবার রাতে শুভ’র নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একদল অস্ত্রধারী রামদা, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে অফিসে ঢুকে পড়ে।
হামলাকারীরা ইমাম উদ্দিনকে কিল-ঘুষি মারার পর চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। এতে তার মাথা কেটে মারাত্মক রক্তপাত হয়। এছাড়া লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এসে আব্দুল মালেক নামে এক বৃদ্ধও হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ক্যাশের ৫ লাখ টাকা লুটে নিয়ে মামলা না করার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার মাথায় পাঁচটি সেলাই লেগেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ শুভর ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















