
মো. রিয়াজুল সোহাগ, নোয়াখালী ভোগান্তি যখন নিত্যসঙ্গী, তখন জনপ্রতিনিধি কিংবা সমিতি নেতাদের ‘কুম্ভকর্ণ’ নিদ্রা যেন সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোয়াখালীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী কাঁচাবাজারের প্রবেশপথ নিয়ে এখন এমনই এক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বাজারের জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি অনেক নেতা বদলালেও বদলায়নি সরু গলি আর ভাঙাচোরা রাস্তার ভাগ্য। সংস্কারের বদলে নেতাদের পকেট ভরাটের মহোৎসবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকেছে।
নির্বাচন আসে, ভাগ্য বদলায় না সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সমিতির নেতাদের কাছে বাজারের উন্নয়নের চেয়ে নির্বাচনই বড় ইস্যু। কতিপয় নেতা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার পর আর বাজারের দিকে ফিরে তাকান না। ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনের সময় বড় বড় বুলি দিলেও জেতার পর কেন তারা সংস্কারবিমুখ হয়ে পড়েন? বাজারের উন্নয়নের নামে ওঠা তহবিলের টাকা কোথায় যায়—এমন প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।
চাঁদাবাজিতে বিরাম নেই, সেবায় শূন্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৪-এর গণ-আন্দোলনের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত পৌরসভা ও বাজার কমিটিসহ সব পক্ষই নিয়মিত চাঁদা আদায় করেছে এবং এখনো করছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা শত কষ্টের মাঝেও সব প্রকার পাওনা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে মেলেনি ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। বিশেষ করে মাছ বাজার ও কাঁচাবাজারের মেইন রাস্তা থেকে চামড়া ব্যবসায়ী বাহার মিয়ার দোকান পর্যন্ত পথটি এখন ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী। অথচ এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে মৃত চামড়া ব্যবসায়ী বাহার মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা দেই, ট্যাক্স দেই। কিন্তু রাস্তা প্রশস্ত করার বা সংস্কার করার কোনো উদ্যোগ দেখি না। সংকীর্ণ এই রাস্তার অবস্থা এমন যে—মালবোঝাই একটি পিকআপ, সিএনজি অথবা মাঝারি ট্রাক ঢুকলে তা বের হতে যতটুকু সময় অপচয় হয়, সেই সময়ে খাগড়াছড়ি থেকে আসা একটি মালবোঝাই গাড়ি তার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারে! মালামাল লোড-আনলোড করা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাফেরাই দায়। নেতাদের পকেট ভরাট বাদ দিয়ে রাস্তার দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন চৌমুহনী পৌরসভার কর্তৃপক্ষ এবং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান নেতাদের এই উদাসীনতা বাজারের স্বাভাবিক বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অবিলম্বে মেইন রোড থেকে বাহার মিয়ার দোকান পর্যন্ত রাস্তাটি প্রশস্ত ও ব্যবহারের উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
আরও জানতে সাথে থাকুন…

















