
মো.রিয়াজুল সোহাগ, প্রতিবেদক বিডিনিউজ24 |
রাজনীতিতে এখন জনসেবার চেয়ে পকেটের ওজনই কি বড় হয়ে দাঁড়াল? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এমন প্রশ্নই এখন মুখে মুখে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে তথ্য সামনে এনেছে, তাতে চোখ কপালে ওঠার দশা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হলফনামা বলছে, এবার আইনপ্রণেতাদের প্রায় ৭৯.৪৬ শতাংশই কোটিপতি। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হতে যারা সংসদে যাচ্ছেন, তাদের বিশাল অংশই বিত্ত-বৈভবের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে।
এদিকে, আগামীকালকের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে পর্দার আড়ালে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। কার ভাগ্যে জুটছে মন্ত্রিত্বের তকমা, আর কেই-বা থাকছেন নেপথ্যে—তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।
টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩শ’ আসনের মধ্যে ২৩৮ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন প্রার্থীর সম্পদ শতকোটি ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতি এখন ব্যবসার অন্যতম লাভজনক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকার এই ঝনঝনানির মধ্যে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর কতটা জোরালো হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
কেমন হচ্ছে তারেকের মন্ত্রিসভা?
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সচিবালয় থেকে গুলশান—সবখানে কানাকানি চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এবার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক থাকতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় যাদের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে:
- তারেক রহমান: থাকছেন সরকারের নেতৃত্বে (প্রধানমন্ত্রী)।
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দলের এই অভিভাবক সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন।
- মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই সেনাসদস্যের কাঁধে যেতে পারে স্বরাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুভার।
- আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থনীতির মারপ্যাঁচ সামলাতে তাকেই অর্থ বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- সালাহউদ্দিন আহমদ: স্থানীয় সরকার বা প্রশাসনের কোনো বড় দপ্তরে তার নাম শোনা যাচ্ছে।
- আন্দালিভ রহমান পার্থ: তরুণ প্রজন্মের প্রিয় এই নেতাকে আইটি বা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে।
- জোনায়েদ সাকি: আন্দোলনের মাঠ থেকে সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ঠাঁই পেতে পারেন তিনি।
শপথের তোড়জোড়
আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন সারথিরা শপথ নেবেন। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান ঘিরে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে এখন সাজসাজ রব।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—মন্ত্রিসভা কোটিপতিদের হোক বা না হোক, সেটি যেন অন্তত ‘দুর্নীতিমুক্ত’ হয়। তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে একটি স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা উপহার দেওয়া।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















