
ডেস্ক নিউজঃ
মানুষের মৌলিক চিকিৎসা অধিকার সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। জীবনরক্ষাকারী ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এখন থেকে পুরোপুরি সরকারের হাতে থাকবে বলে রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ— বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ — এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন।
রায়ে বলা হয়— ১৯৯৪ সালের সেই সার্কুলার, যেখানে মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল, সেটি ‘অবৈধ’। পরিবর্তে ১৯৯৩ সালের গেজেটে তালিকাভুক্ত ৭৩৯টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকারই নির্ধারণ করবে।
এ সংক্রান্ত গেজেট পুনর্বহালের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে—
-
সব জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে
-
কোনো ওষুধ কোম্পানি এসব ওষুধে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারবে না
-
নতুনভাবে নির্ধারিত দাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। বাজারে দাম তদারকিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) আরও শক্তিশালী ক্ষমতা ব্যবহার করবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ১৯৮২–এর ধারা ১১ অনুযায়ী ওষুধের দাম নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা সরকারের।
জনস্বার্থে করা HRPB–এর রিটের প্রেক্ষিতে রায়টি ঘোষণা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে—
-
বাজারে অতিরিক্ত দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে
-
সবার নাগালে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পাওয়া সহজ হবে
-
অসাধু মূল্যবৃদ্ধি ও সিন্ডিকেট বন্ধ হবে
মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এটি দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তব প্রতিফলন এবং চিকিৎসাকে সক্ষমতার মধ্যে আনার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
হাইকোর্টের এই রায় ওষুধের মূল্যনীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করল। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষায় এটি নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।


















