মো.শহিদুল ইসলাম|
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন’ এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স’ যৌথভাবে এই কর্মসূচি পরিচালনা করে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় ২০০টি ফলজ, বনজ এবং ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়তেই তাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারহানা আফরোজ। তিনি তার বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যময়। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাধারণ মানুষকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
ফারহানা আফরোজ আরও যোগ করেন যে, কেবল সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ বাড়ির খালি জায়গায় অন্তত একটি করে চারা রোপণ করা। তিনি বিশেষ করে ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর ওপর জোর দেন।
পরিবেশ সংগঠক ও গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সভাপতি স ম জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মোহাম্মদ মুছা আলম খান চৌধুরী।
আকতার হোসেন নিজামীর সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিত বক্তারা মনে করেন, দেশের বনাঞ্চল বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এমন তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চারা বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ তীব্রতর হওয়ায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দেশজুড়ে বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়ে আসছে। চট্টগ্রামের এই উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















