
চাটখিল উপজেলার ০১ নং শাহাপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে চাটখিল ও চন্দ্রগঞ্জ থানার অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী মো. মামুন ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। তার বিক্রিত মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এলাকার যুবকরা। তাই এলাকাবাসী যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত মাদক ব্যবসায়ী মামুনকে আইনের আওতায় আনার জন্য চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, চাটখিল উপজেলার ০১ নং সাহাপুর ইউনিয়নের সোমপাড়া এলাকা শিক্ষাও সস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। অত্র এলাকায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু দিনে দিনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা মাদকের কালো থাবায় গ্রাস হয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাজ কর্মকা-ে জড়িয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, প্রসাদপুর গ্রামের ঠাকুর বাড়ির মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে মো. মামুন ও তার স্ত্রী কুলসুম অত্র এলাকার চিহিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে চাটখিল, চন্দ্রগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকবার পুলিশ মামুন ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে তারা পুনরায় এ ব্যবসা চালিয়ে যায়। বর্তমানে সে চাটখিল উপজেলার ০১ নং শাহাপুর ইউনিয়ন ও চন্দ্রগঞ্জ থানার বশিকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার কারনে শিক্ষার্থীরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে এবং এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে। দিন দিন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং এসকল মাদকসেবীরা বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বসে মাদকসেবন করার পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের ইভটিজিংসহ নানাভাবে হয়রানি করছে। এছাড়া এলাকার কেউ বিদেশ থেকে আসলে মামুন ও তার সহযোগিরা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে এবং রাতের বেলায় এলাকার মানুষের নারিকেল-সুপারীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া রাতের বেলায় মহিলারা প্রয়োজনীয় কাজে বের হলে সে এবং তার সহযোগিরা ধর্ষনের চেষ্টা করে। মামুনের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে তাদের উপর হামলা চালায় ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এক কথায় তার কারণে পুরো এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে, সে পুরো এলাকাটকে নরক বানিয়ে ফেলেছে।
প্রসাদপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাখাওয়াত হোসেন সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ মে ছুটিতে সৌদি থেকে বাড়িতে আসার পর ০৩ জুন মামুন তার কাছে ০৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে সে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় সে সোনাইমুড়ি সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মো.সেলিম খান নামের অপর এক বাসিন্দা জানায়, মামুন ও তার সহযোগিরা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন লোকের টিউবয়েল,পানির মটরসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। তার অন্তত ১ শত নারিকেল চুরি করে নিয়ে গেছে।
মো.হেদায়েত উল্যাহ বলেন, মামুনের মাদক ব্যবসার বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীর উপর রাতের বেলায় সে হামলা চালায় এবং তার স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করে। বর্তমানে এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
এ ব্যাপারে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁতে হবে। এ ব্যপারে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
















