
সম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
চট্টগ্রামের আকাশ জুড়ে আজ রাতে যেন আগুনের লাল আভা। ইপিজেড এলাকার অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারদিক এখন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত। রাতের আঁধারে দাউ দাউ করে জ্বলছে পুরো ভবন, চারপাশের বাতাসও যেন আগুনের তাপে কাঁপছে।
বেলা ২টার দিকে শুরু হওয়া আগুন এখনো (রাত ১০টা) নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের তীব্রতায় ১০০ মিটার দূর থেকেও ত্বক পুড়ে যাওয়ার মতো উত্তাপ অনুভূত হচ্ছে। তবু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অন্তত ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
আগুন নেভাতে মাঠে নামানো হয়েছে আধুনিক ফায়ার রোবটও। তবুও আগুন যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে প্রতিটি মুহূর্তে।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান,
“উপরের ফ্লোরের আগুন খণ্ড খণ্ড হয়ে নিচে পড়ছে। এতে নিচের ফ্লোরের দাহ্যবস্তুতে আগুন লেগে যাচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। বাতাসের তীব্রতা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।”
সরেজমিন দেখা গেছে, টপ ফ্লোরের ছাদ ধসে পড়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, দরজা-জানালা গলে নিচে পড়ছে। থেমে থেমে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ হচ্ছে। রাত ১০টার দিকে হালকা বৃষ্টি পড়লে উপস্থিত সবার মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করছে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের দুই প্লাটুন সদস্য।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান,
“স্মরণকালে চট্টগ্রামে এত ভয়াবহ আগুন দেখিনি। মনে হচ্ছে পুরো ভবনটাই ছাই হয়ে যাবে।”
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধু আগুন নেভানো নয়,পাশাপাশি আশপাশের ভবন রক্ষা করা। ভবনের কর্মীদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে পেরিছি এটাই এখন একমাত্র সান্ত্বনা।”
সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় আশপাশের সব কারখানা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্ষতির পরিমাণ বিশাল হতে পারে এবং প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে,
“ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
চট্টগ্রামের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি ভবনের নয়, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম সতর্কবার্তা। এখনই যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেগে না ওঠে, আগামী দিনগুলোয় এমন ট্র্যাজেডি হতে পারে আরও ভয়াবহ—এমন আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
রাতের এই আগুন শুধু কারখানার দেয়াল নয়, ছারখার করছে মানুষের ঘাম আর জীবিকার স্বপ্নও। আগুন নেভার পরও রয়ে যাবে পোড়া গন্ধ—মানবিক ব্যথার, অসচেতনতার, আর এক অদম্য প্রতিরোধের গল্প।
















