
সাজ্জাদুল ইসলাম, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী): নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘুষের টাকা ফেরত না দিয়েই রাতের আঁধারে পালিয়ে গিয়েছেন সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিন। ভুক্তভোগীরা কফিল উদ্দিনের রিলিজ পত্রে স্বাক্ষরের পূর্বে ঘুষের টাকা ফেরতের দাবি জানালেও সেটা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় রবিবার (২৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে রিলিজ পত্র নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিন।
জানা যায়, রবিবার দুপুরে উপজেলার বজরা ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিনের বিচারের দাবি ও ঘুষের টাকা টাকা ফেরত পেতে ভূমি অফিস অবস্থান করেন ভুক্তভোগীরা। চলতি মাসে বজরা ভূমি অফিস থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বদলি করা হয় কফিল উদ্দিনকে। অসংখ্য সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে নানা কাজের অযুহাতে টাকা নিয়েছেন তিনি। তবে টাকা নিয়েও কাজ করেননি। সেবা গ্রহীতার কাগজও ফেরত দেননি। এখন টাকা ফেরত না দিয়ে ও কাজ না করে অন্যত্র বদলি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘুষের টাকা ফেরত পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার ও সরকারি কমিশনার ভূমি এসিল্যান্ড দ্বীন আলম জান্নাতের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও তারা সুফল পাননি। পরে সোনাইমুড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আলম জান্নাত রবিবার দিবাগত রাতে কফিল উদ্দিনের রিলিজ পত্রে স্বাক্ষর করেন। এই রিলিজপত্র পেয়ে রাতেই সহকারি তহসিলদার কফিল উদ্দিন পালিয়ে যান।
গ্রাহকদের ভোগান্তি, ঘুষ গ্রহণ ও প্রতারনার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তহসিলদার কফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ১৩ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিনকে একই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাতিয়া উপজেলা বদলি করা হয়।
সোনাইমুড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি)দ্বীন আলম জান্নাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘুষের টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগীরা উপজেলা ভূমি অফিসে এসেছিলেন। রবিবার দিবাগত রাত ১০ টা পর্যন্ত তারা অবস্থান করেন। পরে ইউএনওর কাছে বিস্তারিত জানিয়ে চলে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। রাতে উপজেলা পরিষদে ভুক্তভোগীরা এসে তাকে অবগত করেছেন।
















