
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা|
বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সঙ্গে হওয়া ‘গণভোটের’ রায় বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’ কার্যকরের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার রাজপথ। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে ‘জনগণের রায় অবমাননা’ ও ‘সুবিধাবাদী রাজনীতির’ অভিযোগ তুলেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
এক দলকে বিদায় করে অন্যকে বসাতে বিপ্লব হয়নি: জামায়াত
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, “জুলাই বিপ্লব কোনো বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। এই বিপ্লব হয়েছিল বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি অতীতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সহজে মানতে চায়নি, আজও তারা গণভোটের রায় মানতে গড়িমসি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে বাধ্য করা হবে।”বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফেকি’ রাজনীতির অভিযোগ মাওলানা মামুনুল হকের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বিএনপির বর্তমান অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপির রাজনীতি একদিকে সুবিধাবাদী, অন্যদিকে মুনাফেকি। নির্বাচনের আগে তাদের নেতা তারেক রহমান জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, অথচ এখন তারা সেই জনরায় মেনে নিচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যেসব অধ্যাদেশ সরকারের ক্ষমতা বাড়ায়, সেগুলো বিএনপির পছন্দ। কিন্তু যেগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, সেগুলো তারা বাতিল করতে চাইছে। ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।কেন এই বিরোধ?
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার। ১১ দলীয় জোটের দাবি:
* একই তফসিলে দুটি ভোট হয়েছে: একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য।
* বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
* জোটের নেতাদের মতে, গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচনও বৈধ হতে পারে না।
মাঠে নামার ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং জামায়াতের ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ উভয়ই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি ‘ম্যানেজ ভোটের’ মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এখন জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। তারা বলেন, “জনগণ রাজপথে নামলে পালানোর জায়গা পাওয়া যাবে না।”
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করো’ বলে স্লোগান দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে তাদের সাবেক মিত্র ও সমমনা দলগুলোর এই সংঘাত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…

















