
🧲 নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
“এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বরাবরই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ন্যায়বিচারনিশ্চিতের কথা বলে এসেছি,” বলেন রাভিনা।
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়(ওএইচসিএইচআর) বলেছে, তারা ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না।
সোমবার জেনেভায় রায়ের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের(ওএইচসিএইচআর) মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনেরের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সদরদপ্তর।
তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধেবাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ রায় দিয়েছে, যা গত বছরেরজুলাই আন্দোলনে দমনপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত।”
তিনি বলেন, “আমরা এ বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। কিন্তু সবধরনের জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমে, বিশেষ করে এ ধরনের মানবতাবিরোধীঅভিযোগের ব্যাপারে আমরা বরাবরই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতেরকথা বলে এসেছি।”
শেখ হাসিনার রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানেআসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলেছে এবং আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে।
“আমরা মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় ‘দুঃখ প্রকাশ’ করছি, যা যেকোনো প্রেক্ষাপটেই আমরাসমর্থন করি না।”
এদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক আশাকরেন, বাংলাদেশ সত্য প্রকাশ ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে জাতীয় পুনর্মিলন ওপুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাবে।
তিনি মনে করেন, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নিরাপত্তা খাতে অর্থবহ সংস্কারঅন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত, যেন এ ধরনের লঙ্ঘন ও নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সোমবার শেখ হাসিনা ও তার সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।
মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের সাজাহয় পাঁচ বছরের।
দেড় দশক দেশ শাসন করা হাসিনা ১৫ মাস আগের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে এখনআছেন ভারতে। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যার মাথার ওপরঝুললো মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া।
আর সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকেই শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার রায়এল, যে আদালত তার সরকার গঠন করেছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য।
এই ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতেইসলামীর পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

















